সংসার জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তারা ছিলেন একে অপরের ছায়া। সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে পার করেছেন বহু বসন্ত। অবশেষে মৃত্যুও যেন তাদের আলাদা করতে পারল না। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পাইককান্দি গ্রামে মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। প্রিয়তম স্বামীর চিরবিদায়ের শোক সইতে না পেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন স্ত্রীও। এমন বিরল ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের কালো ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন পাইককান্দি গ্রামের শ্রমজীবী ভ্যানচালক মিঠু খান (৫০)। স্বজনরা তাকে দ্রুত বালিয়াকান্দি উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুর ২টায় জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কিন্তু বিয়োগান্তক ঘটনার এখানেই শেষ নয়। দাফন শেষ হতে না হতেই শুরু হয় আরেক করুণ অধ্যায়। স্বামী মিঠু খানের নিথর দেহ যখন কবরে শায়িত করা হচ্ছে, তখন বাড়িতে শোকের সাগরে ভাসছিলেন স্ত্রী হেনা বেগম (৪৫)। জীবনসঙ্গীকে হারানোর শোকে তিনি বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। দাফন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই হেনা বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকেল ৪টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আকরাম খান বলেন, হেনা বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন। অতিরিক্ত শোক ও মানসিক আঘাতেই সম্ভবত তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এমন দৃশ্য সচরাচর দেখি না।
/কহু