আসন্ন জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আগে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে বিশেষ গ্যারান্টি দাবি করেছে ইরান।
দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, ইরানি জাতীয় দল যখন টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাবে, তখন যেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবে ‘অপমান’ করা না হয়, তা ফিফাকে নিশ্চিত করতে হবে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাজ স্পষ্টভাবে বলেন, তাদের সফরের জন্য একটি নিশ্চয়তা প্রয়োজন যাতে স্বাগতিক দেশে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রতীক বা ব্যবস্থার অবমাননা করার কোনো অধিকার কারো না থাকে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ইরান যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে যাচ্ছে এবং তাদের স্বাগতিক হলো ফিফা—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বা আমেরিকা নয়।
ইরানি ফুটবল প্রধানের এই কঠোর মন্তব্যের পেছনে সাম্প্রতিক একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে মেহেদি তাজসহ একটি ইরানি ফুটবল প্রতিনিধি দলকে কানাডায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের সঙ্গে কথিত যোগসূত্রের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে তার ভিসা বাতিল করে দেয়, যার ফলে প্রতিনিধি দলটি সে দেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই বিশ্বকাপের পরিবেশ এবং ইরানি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে তেহরানের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আইআরজিসি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর অবস্থানের কারণে ইরান আগেভাগেই ফিফার হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতিমধ্যে সাজ সাজ রব শুরু হয়েছে এবং গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে টম ব্র্যাডি এবং শাকিল ওনিলের মতো তারকারা উপস্থিত ছিলেন। তবে মাঠের ফুটবলের চেয়ে এখন কূটনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলোই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।
ইরান মনে করে, ফুটবল একটি বিশ্বজনীন খেলা এবং এখানে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা আদর্শিক বিরোধের প্রভাব পড়া উচিত নয়। ফিফা এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সব দেশের সমান মর্যাদা রক্ষার দায়বদ্ধতা ফিফার নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই দাবি ফিফাকে একটি কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বৈরিতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নীতিমালার প্রেক্ষাপটে ইরানি প্রতিনিধি দলের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা ফিফার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা কেবল খেলার জন্য প্রস্তুত নয়, বরং তাদের জাতীয় মর্যাদাও সমানভাবে সুরক্ষিত দেখতে চায়। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায় এই বিষয়টি সমাধান করা বিশ্ব ফুটবলের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সময়ের আলো/টিএইচ