মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জ্বালানি তেলের দাম কমেছে।
বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আশাবাদ তৈরি হয়েছে, একটি সফল শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হলে ওই অঞ্চলের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
বুধবার (৬ মে) এই সম্ভাবনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেখানে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ০১টা ০৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ এর দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ৫২ ডলার বা ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড তেলের বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ১০৮ দশমিক ৩৫ ডলারে।
উল্লেখ্য, এর আগের দিনও এই তেলের দাম ৪ শতাংশ কমেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের বাজার ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ বা ডব্লিউটিআই এর দাম ব্যারেল প্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার বা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ১০০ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে এসেছে। ডব্লিউটিআই তেলের দামও আগের দিন প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
বর্তমানে ট্রাম্পের দেওয়া আলোচনার ইঙ্গিত এবং সামরিক উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা আবার সচল হতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর ফলে তেলের দাম আরও কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরার সংকেত পাওয়ামাত্রই বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত ছাড়তে শুরু করেছেন, যা দাম কমার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত না হচ্ছে, ততক্ষণ বাজারের এই ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইতিবাচক অবস্থানকে বাজারের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতা ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য তেলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।
সময়ের আলো/টিএইচ