রিচি সোলায়মানকে এখন মাঝেমধ্যে একক গল্পে দেখা গেলেও ধারাবাহিকে ছিলেন অনুপস্থিত। তবে দীর্ঘদিন পর ‘অপূর্ণতা’ নামে ৭ পর্বের একটি ধারাবাহিক দিয়ে সেই নীরবতা ভেঙেছেন তিনি। সম্প্রতি মিনারভা ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে নাটকটি।
এই ধারাবাহিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গল্পভাবনা আমার কাছে ভালো লেগেছিল। আজকাল সব নাটকের গল্পই প্রায় কাছাকাছি বা একই রকমের মনে হয়। কিন্তু এ গল্প আমার কাছে একটু অন্যরকম মনে হয়েছে। তাই এতে অভিনয় করেছি। এ ছাড়া এখন গল্প ও নিজের চরিত্র ভালোভাবে বুঝে অভিনয় করতে হয়। যেনতেন কাজ করলে দর্শকের পছন্দ হবে না।
‘অপূর্ণতা’ ধারাবাহিকের পাশাপাশি গত ঈদের টেলিছবি ‘ভালোবাসার অন্য নাম তুমি’ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন রিচি। ঈদে একটি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারের পর এটি ‘রঙ্গন’ এন্টারটেইনমেন্ট ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারে আসে গত ১৩ এপ্রিল। প্রচারে আসার এতদিন পরেও টেলিছবিটি উপভোগ করছেন দর্শক।
ইফফাত আরেফীন তন্বী রচিত ও চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত টেলিছবির মূল বক্তব্য হচ্ছে- মানুষ যাকে চায় তাকে পায় না, আবার যাকে পায় তাকে সে চায় না। কিন্তু যাকে পায় আশপাশের মানুষকে ভালো রাখার জন্য তাকেই মেনে নেয়, জীবনে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে শহীদুজ্জামান সেলিমের স্ত্রীর ভূমিকায় রিচি সোলায়মানের অভিনয় দাগ কেটেছে দর্শকের হৃদয়ে।
টেলিছবিটি প্রসঙ্গে রিচি বলেন, চয়নিকা দিদির নির্দেশনায় এর আগেও আমি খুব সুন্দর সুন্দর গল্পের নাটকে অভিনয় করেছি। এই টেলিফিল্মের গল্পটা যদিও আমাদের খুব চেনা জানা কিন্তু তারপরও দিদি তার নির্মাণ দিয়েও অনন্য করে তোলার চেষ্টা করেছেন। জীবনঘনিষ্ঠ গল্পের নাটকে কাজ করার আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে। ইউটিউবে টেলিফিল্মটি প্রচারের পর বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।
গত ঈদে এক টেলিছবি দিয়ে সাড়া ফেললেও আসন্ন ঈদুল আজহায় পর্দায় উপস্থিত থাকছেন না এই অভিনেত্রী। তিনি জানান ছেলেমেয়ের পরীক্ষা চলছে। এখন অভিনয়ে সময় না দিয়ে মা হিসেবে তাদের পাশে থাকাটাই বড় দায়িত্ব বলে মনে করছেন তিনি। রিচি বলেন, ঈদুল ফিতরে একটি কাজ করলেও ঈদুল আজহার জন্য কিছুই করছি না। ছেলেমেয়েদের নিয়ে ব্যস্ত থাকছি। ওদের পরীক্ষা, এই সময়ে অভিনয় করার ইচ্ছা নেই।
২০০৮ সালে রাশেকুর রহমান মালিকের সঙ্গে বিয়ে হয় রিচির। তার স্বামী নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগে চাকরি করেন। বিয়ের পরপরই আমেরিকায় স্থায়ী হন অভিনেত্রী। ভিনদেশে থাকলেও নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি রয়েছে অগাধ ভালোবাসা। তিনি চান তার ছেলেমেয়ে শেকড়কে ধরে রাখুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকুক। তাই দেশের স্কুলে ছেলেমেয়েকে পড়াচ্ছেন তিনি।
রিচি বলেন, আমার ছেলেমেয়ে আমেরিকায় জন্ম নিয়েছে, সেখানে বেড়ে উঠলে স্বাভাবিকভাবে আমেরিকান ছেলেমেয়ের মতোই বড় হবে। কিন্তু আমি চাচ্ছিলাম, ওদের মধ্যে দেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ থাকুক। ওদের মা-বাবার শেকড় তো বাংলাদেশ, সেই শেকড়ের সঙ্গে ওদের সম্পর্ক তৈরি হোক। দিনশেষে ওরা আমেরিকায় যাবেই, তবু আমি আর আমার স্বামী ভাবলাম, যদি কিছুটা সময় দেশে থাকে, অন্তত ‘ও’ লেভেল বা ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত, তা হলে শেকড়ের টান ওদের মধ্যে সারাজীবন থাকবে। তা না হলে ওরা তো বাংলাদেশ চিনবেই না। আমেরিকায়ও আমাদের বাড়িঘর আছে। ফলে দুই দেশেই যাওয়া-আসার মধ্যে থাকব। আর ছেলেমেয়েরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর সেখানে স্থায়ীভাবে চলে যাবে।
এখানে একটা কথা বলে রাখি আমি দেশে নাকি বিদেশে, এই বিষয়ে সবাই কনফিউজড থাকেন। সবাই জানে আমি আমেরিকায়, অথচ দেশে। এই জায়গায় একটু মিস-কমিউনিকেশন হয়ে যায়। যাওয়া-আসার মধ্যে থাকা হয় বলেই এমনটি হচ্ছে। তবে এখন ঢাকাতেই আছি। দুই বছর আগে রাজধানীর উত্তরায় ইটারনাল বিউটি লাউঞ্জ নামে একটি সেলুন চালু করেছি। পরিবার ও অভিনয়ের পাশাপাশি নিয়মিত সেখানেও সময় দিচ্ছি। সব মিলিয়ে বলা যায়, আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছি।
বিয়ের পর লাইট-ক্যামেরা থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও অভিনয় ছেড়ে দেননি রিচি। কয়েক বছর ধরে ঢাকায় থাকলেও অভিনয়ে নিয়মিত নন। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, আমি নিয়মিত অভিনয় করছি না। আগের মতো অভিনয়ে ব্যস্ত থাকা সম্ভবও না। তবে আমি কাজের মধ্যেই আছি। পছন্দ হলে অভিনয় করি। যে গল্প-চরিত্র আমার সঙ্গে যায়, সেরকম কিছু হলে, সুযোগ থাকলে অভিনয় করা হয়। স্বাচ্ছন্দ্যের কাজ পেলে অভিনয় করব।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ার রিচির। দীর্ঘ এই অভিনয়জীবনে প্রথমবার সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রাজীব সালেহীন। রিচি বলেন, নানা সময় পরিকল্পনা করা হলেও সিনেমা করা সুযোগ হয়ে উঠছিল না। অবশেষে একটি রাজীব সালেহীনের পরিচালনায় সিনেমায় অভিনয় করেছি। সিনেমাটি নিয়ে আগেই কিছু বলা যাবে না। মুক্তির আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত সব জানানো হবে। তবে এর গল্পটি খুব সুন্দর। আমার চরিত্রটিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
সময়ের আলো/জেডি