হালখাতা বা রুপালি পর্দা— সব জায়গাতেই সমান সাবলীল শান্তা জাহান। উপস্থাপনা দিয়ে পরিচিতি পেলেও অভিনয়ে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন এই তারকা। সমসাময়িক ব্যস্ততা, সমালোচনা ও কাজের দর্শন নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।
সম্প্রতি প্রচারিত আপনার অভিনীত ‘অচেনা পথের বাঁকে’ নাটকটি প্রসঙ্গে জানতে চাই?
এই নাটকের মাধ্যমে ১১ বছর পর আমার অভিনয়ে ফেরা। মাবরুর রশীদ বান্নাহর এই নাটকে একজন শিক্ষিকার চরিত্রে দেখা গেছে আমাকে। নাটকে সহশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন আবিদ বিন পারভেজ প্রান্ত। শিক্ষিকা ও ছাত্রের মধ্যে এক ভালোলাগার সম্পর্ককে ঘিরে নাটকের গল্প এগিয়েছে। সম্প্রতি নাটকটি ইউটিউবে প্রকাশের পর থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।
এত লম্বা সময় অভিনয়ে না থাকার কোনো নির্দিষ্ট কারণ?
আসলে এই সময়ে অনেক নাটকেই অভিনয় করার প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু দুটো কারণে আসলে অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি। প্রথমত এই সময়টুকুতে আমি উপস্থাপনা নিয়ে এত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি যে অভিনয় নিয়ে ভাবার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে গল্প এবং চরিত্র পছন্দ না হওয়াই অভিনয় করিনি। কিন্তু এই নাটকের গল্পটা আমার ভালো লাগায় কাজটি করেছি।
অভিনয়ে নিয়মিত হবেন?
অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ভাবনা থাকলে এক দশক আগেই নিয়মিত হতাম। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে হয়তো মাঝেমধ্যে বিজ্ঞাপন কিংবা নাটকে দেখা যাবে এর বেশি কিছু না। উপস্থাপনা ঘিরেই আমার সবকিছু। এই জায়গাটাতেই আমি শতভাগ পরিপূর্ণতা খুঁজে পাই নিজের মাঝে।
প্রস্তাব পেলেও সিনেমায় কাজ করেননি। ইচ্ছে নেই নাকি অন্য কোনো কারণ?
নানা কারণে প্রস্তাব পেয়েও সিনেমায় কাজ করিনি। তবে অবশ্যই সিনেমায় কাজ করার আগ্রহ রয়েছে তবে পুরোপুরি কমার্শিয়াল সিনেমায় নয়। একটু অফট্র্যাকধর্মী গল্প এবং নারীকেন্দ্রিক, যেখানে একজন সংগ্রামী নারীর জীবনের গল্প উঠে আসবে সে রকম চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছে আমার আছে। কারণ আমার মনে হয় এ ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ থাকবে।
উপস্থাপনা ও অভিনয়— ভারসাম্য রক্ষা করেন কীভাবে?
ভারসাম্য আসলে মানসিক প্রস্তুতির ব্যাপার। উপস্থাপনায় দর্শক সরাসরি সামনে থাকে, ইনস্ট্যান্ট ফিডব্যাক পাওয়া যায়। আর অভিনয়ে চরিত্রটির ভেতর ঢুকে জীবন্ত হয়ে উঠতে হয়। আমি কাজ ভাগ করে নিই। যখন উপস্থাপনা করি, তখন ওই এনার্জিটাই দিই; যখন ক্যামেরা অন হয়, তখন চরিত্রের বাইরে কিছু ভাবি না। পেশাদারিত্ব ও ভালো কাজের তাগিদ থাকলে দুটি সামলানো কঠিন নয়।
সমসাময়িক কাজ নিয়ে জানতে চাই?
এখন নাটকের পাশাপাশি কিছু ভিন্নধর্মী কাজ ও বড় প্রজেক্টের কথা চলছে। দর্শকরা আমাকে যে রূপে দেখতে অভ্যস্ত, তার বাইরে একটু চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করতে বেশি ভালো লাগে। স্ক্রিপ্ট পছন্দ হলেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেব। ওটিটির কাজের প্রস্তাবও আসছে, দেখা যাক সময় এবং সুযোগ মিলে গেলে সেরাটাই দেব।
ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থান নিয়ে কতটা সন্তুষ্ট?
শূন্য থেকে শুরু করে আজ মানুষের ভালোবাসায় যে জায়গায় পৌঁছেছি, তার জন্য কৃতজ্ঞ। তবে আমি তৃপ্ত হতে চাই না; তৃপ্তি মানে তো স্থবিরতা।
আমি প্রতিনিয়ত শেখার মধ্যে থাকতে চাই। একজন পরিপূর্ণ শিল্পী হিসেবে নিজেকে আরও পরিণত করতে চাই— এটাই লক্ষ্য।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা