কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়ে যেতে পারে—চিকিৎসকের কাছ থেকে এমনটা আগেই জেনেছিলেন অভিনেত্রী, মডেল ও উপস্থাপক সামিয়া আফরিন। চিকিৎসার এক পর্যায়ে এসে এবার মাথার সব চুল ফেলে দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। নতুন এই চেহারার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অনুভূতি ও উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন সামিয়া।
ফেসবুক পোস্টে সামিয়া লিখেছেন, জীবনে আবার কখনো এমন সময় আসবে, যখন তার মাথা পুরোপুরি ন্যাড়া হয়ে যাবে—এটা তিনি ভাবেননি। ছোটবেলায় এমনটা হয়ে থাকলেও তখন বিষয়টি বোঝার মতো বয়স ছিল না। কিন্তু বড় হওয়ার পর বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া চুল হারানোর অভিজ্ঞতা খুব কম মানুষেরই হয় বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সামিয়া মনে করেন, জীবনের সব পরিবর্তন নিজের পছন্দ অনুযায়ী আসে না। কিছু বিষয় পছন্দ না হলেও মেনে নিতে হয়। কঠিন পরিবর্তনকেও ধীরে ধীরে নিজের জীবনের অংশ করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
নিজের নতুন চেহারা নিয়ে সামিয়া লিখেছেন, তিনি এই রূপকে গ্রহণ করছেন এবং নিজের মতো করে আপন করে নিচ্ছেন। তার মতে, চুল থাকা বা না থাকার সঙ্গে সৌন্দর্যের প্রকৃত সংজ্ঞা নির্ধারিত হয় না। বরং নিজেকে নিজের মতো করে গ্রহণ করতে পারার মধ্যেই আসল সৌন্দর্য।
নিজের ন্যাড়া মাথার চেহারাকেও জীবনের একটি গল্প হিসেবে দেখছেন সামিয়া। তার ভাষায়, এটি জীবনের একটি কঠিন সময়ের গল্প হলেও একই সঙ্গে সাহস, গ্রহণ করে নেওয়া এবং নিজের প্রতি ভালোবাসারও গল্প।
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের নতুন রূপকে গ্রহণ করে সামিয়া লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, এই আমিই—ন্যাড়া মাথায়, নিজের এই রূপ নিয়ে বিন্দুমাত্র সংকোচহীন।’ পাশাপাশি জীবনের প্রতিটি রূপের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, এই কঠিন সময়ও একদিন কেটে যাবে।
সামিয়া আফরিন প্রায় পাঁচ বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলের দিকে শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিলে ঢাকার একটি হাসপাতালে পরীক্ষা করান তিনি। তখন তার কোলন ক্যানসার শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান এবং সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসা শুরু করেন।
দীর্ঘ চিকিৎসার পর একসময় তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হয় এবং স্বাভাবিক জীবনেও ফিরেছিলেন সামিয়া। তবে সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
চলতি বছর প্রায় তিন মাস আগে তার শরীরে আবারও ম্যালিগন্যান্ট টিউমার শনাক্ত হয়। এবার তার ওভারিয়ান বা ডিম্বাশয়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে কেমোথেরাপি নিচ্ছেন তিনি।
সময়ের আলো/এসএকে