টেলিভিশন দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার এমির ৭৮তম আসরে আলো ছড়িয়েছে ‘উইডোস বে’ ও ‘দ্য পিট’। এবারের আয়োজনে একাধিক রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ওয়েলশ অভিনেতা ম্যাথিউ রাইসের ইতিহাস গড়া। একই রাতে দুটি আলাদা প্রধান অভিনেতার পুরস্কার জিতে এমির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।
এবারের এমিতে সবচেয়ে বেশি পুরস্কার পেয়েছে ‘উইডোস বে’। মোট ১৪টি পুরস্কার জিতেছে অ্যাপল টিভির এই সিরিজ। এর মধ্যে রয়েছে সেরা কমেডি সিরিজের পুরস্কার। সিরিজটির জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন হিরো মুরাই। সেরা লেখার পুরস্কার জিতেছেন নির্মাতা কেট ডিপোল্ড। এছাড়া পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন কেট ও'ফ্লিন।
‘উইডোস বে’-এর অভিনেতা ম্যাথিউ রাইসও ছিলেন এবারের অন্যতম বড় বিজয়ী। কমেডি সিরিজে প্রধান অভিনেতার পাশাপাশি সীমিত সিরিজ ‘দ্য বিস্ট ইন মি’-এর জন্যও প্রধান অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। একই বছরে প্রধান অভিনেতার দুটি বিভাগে পুরস্কার জেতা এমির ইতিহাসে প্রথম অভিনেতা হলেন রাইস।
পুরস্কার হাতে নিয়ে রাইস বলেন, কী ঘটেছে তা এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। নিজের ওয়েলশ পরিচয় নিয়েও গর্ব প্রকাশ করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ছোট একটি দেশ থেকেও তারা অনেক বড় জায়গায় নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারেন।
এবারের এমিতে নাটক বিভাগে সেরা হয়েছে ‘দ্য পিট’। জরুরি বিভাগের ২৪ ঘণ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মেডিকেল ড্রামাটি অনুষ্ঠানের আগে মোট ৩৮টি মনোনয়ন পেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেরা নাটক সিরিজের পুরস্কার ঘরে তোলে এটি। একই সিরিজের জন্য প্রধান অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন নোয়া ওয়াইল।
‘দ্য পিট’-এর নির্মাতা, শোরানার ও নির্বাহী প্রযোজক আর স্কট জেমিল পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান তৈরি করতে শত শত মানুষের প্রয়োজন হয়। মানুষের একে অপরকে বোঝা ও মূল্যায়নে গল্প বলার ভূমিকা এখন আগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
কমেডি বিভাগে ‘উইডোস বে’-এর জয় আরও শক্তিশালী হয় সেরা পরিচালনা ও লেখার পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে। হিরো মুরাই পরিচালনার পুরস্কার গ্রহণ করে বলেন, তার কাজ শুধু অনুষ্ঠান তৈরি করা নয়, বরং সঠিক মানুষদের এক জায়গায় নিয়ে আসা।
‘হ্যাকস’ সিরিজের অভিনেত্রী জিন স্মার্টও এবারের বড় বিজয়ীদের একজন। কমেডি বিভাগে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিজের এমির সংখ্যা আটে নিয়ে গেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ক্লোরিস লিচম্যান ও জুলিয়া লুই-ড্রেফাসের গড়া আটটি এমি জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন স্মার্ট।
ড্রামা বিভাগে পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে আলোচনায় এসেছেন অ্যালিসন জ্যানি। পুরস্কার ঘোষণার পর তার প্রতিক্রিয়াও অনুষ্ঠানের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
সীমিত বা অ্যান্থলজি সিরিজ বিভাগে সেরা হয়েছে ‘ডিটিএফ সেন্ট লুইস’। সিরিজটি এ বিভাগে মোট ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে। এর অভিনেতা ডেভিড হারবার ও লিন্ডা কার্ডেলিনিও নিজ নিজ অভিনয়ের জন্য এমি জিতেছেন।
এবারের অনুষ্ঠানে ‘দ্য লেট শো উইথ স্টিফেন কোলবার্ট’ও সেরা ভ্যারাইটি সিরিজের পুরস্কার পেয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই পুরস্কার বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
অন্যদিকে ‘প্লুরিবাস’-এর জন্য সেরা নাট্য লেখকের পুরস্কার পেয়েছেন ভিন্স গিলিগান। পুরস্কার গ্রহণের বক্তব্যে তিনি গত এক দশকের রাজনৈতিক পরিবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মতভেদ থাকলেও একে অপরের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা দেখানোর আহ্বান জানান।
এবারের এমিতে ছিল আবেগঘন স্মরণপর্বও। প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। অভিনেত্রী স্যালি ফিল্ড পার্টনের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’ ছবিতে একসঙ্গে কাজ করা দুই শিল্পীর দীর্ঘ বন্ধুত্বের কথাও উঠে আসে। রেবা ম্যাকএনটায়ার পার্টনের জনপ্রিয় গান ‘স্মোকি মাউন্টেন মেমোরিজ’ পরিবেশন করে তাকে শ্রদ্ধা জানান।
প্রয়াত অভিনেত্রী ক্যাথরিন ও'হারা, রব রেইনার, এরিক ডেন, স্যাম নিল, ভিনসেন্ট পাস্তোর, হেইডেন প্যানেটিয়ার, অ্যান্থনি হেড, টিম কারি ও জেমস ভ্যান ডার বিককেও স্মরণ করা হয় অনুষ্ঠানের ‘ইন মেমোরিয়াম’ পর্বে।
এদিকে মানবিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বব হোপ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স। পারকিনসন রোগ নিয়ে গবেষণা ও রোগটি নির্মূলের লক্ষ্যে তার ফাউন্ডেশনের কাজের জন্য তাকে এ সম্মান দেওয়া হয়। পুরস্কার গ্রহণের সময় ফক্স বলেন, কঠিন সময় এলেও এগিয়ে আসা, সাহায্য করা এবং সম্ভব হলে আনন্দ খুঁজে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সময়ের আলো/কেএইচ