আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে আবারও সাফল্য পেল বাংলাদেশের অভিনেত্রী জয়া আহসান। সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে তার অভিনীত বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘জয়া আর শারমিন’। পিপলু আর খানের পরিচালনায় চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান। উৎসবের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতিগুলোর একটি হিসেবে ‘বিমল রায় গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে চলচ্চিত্রটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জয়া আহসান। পুরস্কারের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই স্বীকৃতিকে আমার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি “জয়া আর শারমিন” ছবির পুরো দলের জন্যও বিশেষ অর্জন। এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্যও আনন্দ ও গর্বের বিষয়। বিশেষ করে লকডাউনের মতো একটি সীমাবদ্ধ সময় ও দুই নারীর সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত ছবিটি কলকাতার দর্শক, সমালোচক ও চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে যে সাড়া পেয়েছি, সেটিও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়ার (এফএফএসআই) পূর্বাঞ্চল শাখার আয়োজনে কলকাতার নন্দন-৩ প্রেক্ষাগৃহে ৮ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ছয় দিনের এই আয়োজনে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৩৮টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানেই ঘোষণা হয় সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে ‘জয়া আর শারমিন’-এর নাম।
এই উৎসবে বাংলাদেশের আরেকটি চলচ্চিত্রও সম্মাননা পেয়েছে। মকবুল চৌধুরী পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘মামুন : ইন প্রেইজ অব শ্যাডোজ’ পেয়েছে বিচারকদের বিশেষ স্বীকৃতি ‘জুরি মেনশন’। তবে জয়া আহসানের চলচ্চিত্রটিই বেশি আলোচিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির এই অর্জনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জয়া আহসানের অভিনয়জীবনের ঝুলিতে যুক্ত হলো আরও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
মহামারির সময়কার লকডাউনকে পটভূমি করে নির্মিত ‘জয়া আর শারমিন’ একটি ৮৬ মিনিটের বাংলা ভাষার মনস্তাত্ত্বিক চলচ্চিত্র। এতে জয়া আহসান অভিনয় করেছেন জয়া চরিত্রে। তার সঙ্গে শারমিন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মঞ্চের গুণী অভিনেত্রী মহসিনা আক্তার।
একই ছাদের নিচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা দুই নারীর সম্পর্কের পরিবর্তন, নিঃসঙ্গতা, পারস্পরিক মানসিক নির্ভরতা এবং শ্রেণি ও ক্ষমতার ব্যবধানকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে গল্প।
তাতে দেখা যায়, এক বাড়িতে আটকে পড়া জয়া আর শারমিন নিজেদের জন্য তৈরি করে নেন এক ছোট্ট জগৎ। কিন্তু বাইরের ভীতিকর বাস্তবতায় তা ধীরে ধীরে ফিকে হতে থাকে, ফাটল ধরতে শুরু করে তাদের ভেতরকার সম্পর্ক। বন্ধুত্ব, ভয়, সাহস আর হারানোর অনুভূতির মধ্যে গড়ে ওঠা এক আন্তরিক আখ্যান ‘জয়া আর শারমিন’।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি