সমস্যা সমাধানে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন

সম্পাদকীয়

মতামত

বাংলাদেশ প্রশাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে এক ধারায় চলে আসছে। যেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া যেন গভীরভাবে

2026-05-07T05:25:41+00:00
2026-05-07T05:25:41+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
প্রশাসনে তিন অসন্তোষ
সমস্যা সমাধানে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:২৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশ প্রশাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে এক ধারায় চলে আসছে। যেখানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া যেন গভীরভাবে প্রোথিত। এই পরিবর্তনগুলো একদিকে যেমন সরকারের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এসেছে, অন্যদিকে বণ্টনের স্বচ্ছতা, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে, কেন সরকারই পূর্ববর্তী প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের রাখতে চায় না। 

অন্যদিকে সেই সময়ে অবহেলিত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দিয়ে সচিব পদে নিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে না। 
তাই শুরুতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগই একমাত্র বিকল্প। প্রশ্ন হলো, এটা দলীয় সরকারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় সহজ হয়।  এটা যেকোনো সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রাথমিক প্রক্রিয়া। 

Advertisement
তবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন  কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সে বিষয়টি গুরুত্ব না পেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাটি গুরুত্ব পাচ্ছে।

দৈনিক সময়ের আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ব্যাপক প্রসার, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে, যেমন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের মতো পদে অপ্রত্যাশিত অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। যারা এক বা দুই বছর পর পদোন্নতির প্রত্যাশায় রয়েছেন, তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দিন দিন বাড়ছে। 

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রয়োজন ছাড়া কাউকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখায়, যেখানে অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা মেরিটের ভিত্তিতে নিয়োগের নীতির পরিপন্থী মনে করা হচ্ছে।

অতিরিক্তভাবে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ওএসডি করে অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান থাকায় প্রশাসনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। 

এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কিছু কর্মকর্তার নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। জামায়াত ও আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তাদের মধ্যে রেষারেষি এবং রাজনৈতিক কারণে যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করার বিষয়টি প্রশাসনে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

অপরদিকে শূন্য পদ ও ওএসডির সংখ্যা ব্যাপক, যা প্রশাসনের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনি ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসি’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির পরও বাস্তবে তা রূপায়িত হচ্ছে না। বরং রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া আরও গভীর হচ্ছে, যেখানে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাবই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে কিছু ইতিবাচক দিকও দেখা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রয়োজন ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগের পরিবর্তে সাময়িক চুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও বিষয়টি স্বীকার করেছেন যে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের প্রশাসনে পরিবর্তনের সঠিক ছক প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে কিছুটা নমনীয়তা আনা যেতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে এর ওপর নির্ভরশীল হওয়া ঠিক নয়। 

যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। এভাবেই সত্যিকার অর্থে ‘মেরিটোক্রেসি বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে, যা দেশের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য অপরিহার্য। 

এসব ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে অবশ্য গুরুত্ব সহকারে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশিত সরকার বিষয়টি মানুষের দীর্ঘ আকাক্সক্ষার ছায়া বাস্তবে রূপ নেয়। এতে করে প্রশাসনের ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষগুলো দূর হলে সরকার অনেকটাই নির্ভার অবস্থান থাকবে। প্রশাসন সচল ও কর্মক্ষম থাকবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


সময়ের আলো/জেডি 

  বিষয়:   সমস্যা সমাধান  সরকার  পরিকল্পনা  নিয়োগ 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: