বেতন বাড়ানোর সুফল মিলুক জনসেবায়

সম্পাদকীয়

মতামত

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটতে চলেছে। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রায় ১০ বছর পর বেতন-ভাতা ও

2026-09-02T05:45:30+00:00
2026-09-02T05:45:30+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো
বেতন বাড়ানোর সুফল মিলুক জনসেবায়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৫ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটতে চলেছে। নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। প্রায় ১০ বছর পর বেতন-ভাতা ও পেনশনের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে হবে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মূল্যস্ফীতির প্রভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ ইতিবাচক।

নতুন বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর করা হবে না। এটা বাস্তবায়ন করা হবে ধাপে ধাপে। গত ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ, আগামী বছর জানুয়ারিতে ৩০ শতাংশ এবং জুলাইয়ে বাকি ৩০ শতাংশ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। আশা করা হচ্ছে, বেতন কাঠামো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের ওপর একসঙ্গে বড় আর্থিক চাপ পড়বে না। মূল্যস্ফীতির ওপরও তুলনামূলকভাবে কম চাপ পড়বে। 

Advertisement
প্রায় ২৪ লাখ কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীসহ মোট ৩৩ লাখ মানুষ এই কাঠামোর আওতায় আসবেন। পেনশনভোগীদের জন্য নতুন কাঠামোয় যে সুবিধা রাখা হয়েছে সেটা প্রশংসনীয়। নতুন ব্যবস্থায় কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে বেশি উপকৃত হবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতা চালুর সিদ্ধান্তও সময়োপযোগী। এসব সুবিধা কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে সহায়ক হবে।

বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে অর্থের সংস্থান করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে বছরে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সমস্যা হচ্ছে, দেশের রাজস্ব পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। গত অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ছিল ৮৮ হাজার কোটি টাকা। 

চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এনবিআরকে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। এটা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সেটা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। গত পাঁচ বছরে এনবিআরের সর্বোচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। রাজস্ব আদায়ে কেবল উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেই হবে না, লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাজস্ব আদায় ব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কারও করতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে হবে। ব্যাংক খাত থেকে ধার নিয়ে যেন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা না হয়। ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাত চাপে পড়বে, নতুন বিনিয়োগ ব্যাহত হবে।


সরকারি কর্মজীবীদের বেতন বাড়লে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর চাপও তৈরি হবে। সমস্যা হচ্ছে, দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সুখবর নেই। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প-কলকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। 

বেতন বাড়ার প্রভাবে জনসেবার মান উন্নত হয় কি না, সেটা দেখার বিষয়। মানুষ হয়রানিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা করে। আমরা আশা করব, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবে কাজ করবেন। সরকারি কর্মজীবীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি সেবার মান দৃশ্যমানভাবে উন্নত করা হলে নতুন বেতন কাঠামোর প্রকৃত সুফল মিলবে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি  
  বিষয়:   বেতন  বাড়ানো  সুফল  জনসেবায় 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: