বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শনের অসমাপ্ত যাত্রা

ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা

মতামত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু ক্ষমতার পালাবদল, নির্বাচন কিংবা শাসকের উত্থান-পতনের ইতিহাস হিসেবে পড়লে তার গভীরতম অর্থটি অধরা থেকে যায়। রাষ্ট্রের

2026-09-01T09:05:59+00:00
2026-09-01T09:05:59+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমান
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শনের অসমাপ্ত যাত্রা
ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৫ এএম 
সময়ের আলো গ্রাফিক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু ক্ষমতার পালাবদল, নির্বাচন কিংবা শাসকের উত্থান-পতনের ইতিহাস হিসেবে পড়লে তার গভীরতম অর্থটি অধরা থেকে যায়। রাষ্ট্রের ইতিহাস একই সঙ্গে বৈধতা, কর্তৃত্ব, নাগরিকত্ব, প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের ইতিহাস। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানকে পাশাপাশি রাখা কোনো পারিবারিক উত্তরাধিকারের সরল পাঠ নয়; বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের দুই ভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তকে পাশাপাশি রেখে দেখার সুযোগ।

জিয়াউর রহমানের সময়ের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন ছিল—অস্থিতিশীল ও কর্তৃত্ব সংকটগ্রস্ত একটি রাষ্ট্রে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও বৈধতা কীভাবে পুনর্গঠিত হবে। প্রায় পাঁচ দশক পরে তারেক রহমানের সামনে প্রশ্নটি ভিন্ন : নির্বাচনি বৈধতা অর্জনের পর সেই ক্ষমতাকে কীভাবে এমন প্রতিষ্ঠানের অধীন করা যায়, যা ব্যক্তি ও দলের ঊর্ধ্বে রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।

এই পার্থক্যটিই গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাস একই প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করে না।

১৯৭০-এর দশকের বাংলাদেশ ছিল সদ্য স্বাধীন, যুদ্ধবিধ্বস্ত, অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত এবং রাজনৈতিকভাবে অস্থির একটি রাষ্ট্র। ২০২৬-এর বাংলাদেশ অনেক বেশি জটিল। অর্থনীতি বিস্তৃত হয়েছে, সমাজ বহুমাত্রিক হয়েছে, মধ্যবিত্তের পরিসর বেড়েছে, নাগরিক প্রত্যাশা বদলেছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মানুষের অভিজ্ঞতাও দীর্ঘ হয়েছে। ফলে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনকে অপরিবর্তিতভাবে পুনরাবৃত্তি করা আজকের সমস্যার উত্তর হতে পারে না। প্রয়োজন তার সময়ের মৌলিক রাষ্ট্রীয় প্রশ্নগুলোকে নতুন বাস্তবতায় পুনর্নির্মাণ করা। এখানেই এই আলোচনার কেন্দ্রীয় যুক্তি : জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক পর্ব ছিল কর্তৃত্ব পুনর্গঠনের; তারেক রহমানের ঐতিহাসিক পরীক্ষা হবে সেই কর্তৃত্বকে প্রতিষ্ঠানের অধীন করার। এই রূপান্তর ঘটাতে না পারলে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ক্ষমতার উত্তরাধিকার হয়েই থাকবে; রাষ্ট্রদর্শনে পরিণত হবে না।

জিয়াউর রহমানের সময় 

রাষ্ট্রের সংকট ছিল কর্তৃত্বের সংকট

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ উচ্চ নৈতিক প্রত্যাশা নিয়ে রাষ্ট্র নির্মাণ শুরু করেছিল। ১৯৭২ সালের সংবিধানের চার মূলনীতি : জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা— স্বাধীন রাষ্ট্রের আদর্শিক ভিত্তি নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রের নৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা একই গতিতে এগোয়নি। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো, খাদ্যসংকট, দুর্বল প্রশাসন, সীমিত রাজস্ব, রাজনৈতিক সংঘাত ও দ্রুত বেড়ে ওঠা জনপ্রত্যাশার মধ্যে রাষ্ট্র ক্রমেই চাপে পড়ে। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক বিপর্যয় এবং পরবর্তী অভ্যুত্থান পাল্টা-অভ্যুত্থান সেই সংকটকে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সংকটে পরিণত করে।

এই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের উত্থানকে শুধু সামরিক ক্ষমতা দখলের ইতিহাস হিসেবে পড়া যেমন অসম্পূর্ণ, তাকে নিছক গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নায়ক হিসেবে দেখাও ইতিহাসকে সরলীকৃত করে।

তার রাজনৈতিক প্রকল্পে একই সঙ্গে দুটি প্রবণতা কাজ করেছে। একদিকে সামরিক উৎস থেকে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব সংহত হয়েছে; অন্যদিকে সেই কর্তৃত্বকে গণভোট, নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নতুন বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। ১৯৭৭ সালের গণভোট, ১৯৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিএনপি প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন—এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলোকে তাই বৃহত্তর বৈধতা নির্মাণের প্রক্রিয়া হিসেবে পড়া যায়। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন লাভ করে; একই সংসদে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে পূর্ববর্তী সামরিক আইনপর্বের কর্মকাণ্ড সাংবিধানিক বৈধতা পায়।

এখানেই জিয়ার রাজনৈতিক পর্বের ঐতিহাসিক দ্বৈধতা। ক্ষমতা নির্বাচনি বৈধতার ভাষা অর্জন করতে পারে; কিন্তু সেই বৈধতার উৎস ও পরিবেশ কতটা গণতান্ত্রিক—সেটি ভিন্ন প্রশ্ন। সামরিক আইনাধীন রাজনৈতিক পরিসরে অনুষ্ঠিত গণভোট ও নির্বাচন কর্তৃত্বকে নির্বাচনি কাঠামো দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক গণতান্ত্রিক গভীরতা নিয়ে প্রশ্নও রেখে যায়।

ফলে জিয়ার সময়কে সবচেয়ে যথার্থভাবে একটি রূপান্তরকালীন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হিসেবে পড়া যায়—যেখানে সামরিক উৎপত্তির কর্তৃত্ব নির্বাচনি ও দলীয় বৈধতার কাঠামোয় প্রবেশ করছিল, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র তখনও নির্মিত হয়নি। জিয়ার ঐতিহাসিক গুরুত্বও এখানে, তার সীমাবদ্ধতাও এখানে।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ 

পরিচয়ের পরিবর্তন, নাকি রাষ্ট্রের নতুন কল্পনা?

জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের সবচেয়ে গভীর এবং বিতর্কিত অংশ তার জাতীয়তাবাদের ধারণা।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় কল্পনায় ‘বাঙালি’ পরিচয় ছিল কেন্দ্রীয়। ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়ানো এই জাতীয়তাবাদ মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক অর্থের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ সেই পরিচয়ের ভিত্তিকে পুনর্বিন্যাস করে।

কিন্তু প্রশ্নটি শুধু ‘বাঙালি’ না ‘বাংলাদেশি’—এত সরল নয়। আরও গভীর প্রশ্ন হলো : একটি আধুনিক রাষ্ট্রে নাগরিক পরিচয়ের ভিত্তি কী—সাংস্কৃতিক জাতিসত্তা, নাকি রাজনৈতিক নাগরিকত্ব ও ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব?

‘বাঙালি’ পরিচয় ভাষা ও সাংস্কৃতিক জাতিসত্তাকে সামনে আনে। ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় রাষ্ট্র, ভূখণ্ড ও নাগরিকত্বকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেয়। এই অর্থে জিয়ার জাতীয়তাবাদকে বাংলাদেশের জাতিরাষ্ট্র নির্মাণের একটি নতুন রাজনৈতিক কল্পনা হিসেবেও পড়া যায়।

তবে এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রশ্ন যুক্ত হওয়ায় একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সংবিধানে ধর্মীয় ভাষার প্রবেশ এবং রাষ্ট্রীয় আদর্শের পুনর্বিন্যাস প্রশ্ন তোলে— নাগরিক জাতীয়তাবাদ কি প্রত্যেক নাগরিককে সমান রাজনৈতিক মর্যাদায় ধারণ করবে, নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় পরিচয় রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ওপর ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করবে?

আজকের বাংলাদেশের জন্য এই প্রশ্ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভবিষ্যৎ তার নাগরিকীকরণে। বাংলাদেশি হওয়া যদি কোনো নির্দিষ্ট দল, ধর্ম বা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর প্রতিশব্দ না হয়ে সমান নাগরিক মর্যাদার রাজনৈতিক চুক্তিতে পরিণত হয়, তবেই এই জাতীয়তাবাদ একবিংশ শতকে নতুন অর্থ পেতে পারে।
তখন জাতীয়তাবাদ পরিচয়ের প্রাচীর নয়, নাগরিকত্বের ছাদ হয়ে উঠবে।

বহুদলীয়তা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র

বিএনপির প্রতিষ্ঠা জিয়ার রাজনৈতিক প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভিন্ন রাজনৈতিক প্রবণতা, পেশাগত গোষ্ঠী ও সামাজিক অবস্থানের মানুষকে একটি জাতীয়তাবাদী প্ল্যাটফর্মে একত্র করার মধ্য দিয়ে দলটি বিস্তৃত রাজনৈতিক জোটে পরিণত হয়েছিল।

কিন্তু একটি মৌলিক পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন : বহুদলীয়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র একই জিনিস নয়।
বহু দল থাকা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পূর্বশর্ত হতে পারে; কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা তখনই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়, যখন নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সংসদ, গণমাধ্যম ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছার বাইরে দাঁড়িয়েও কাজ করতে পারে। জিয়ার সময়ের একটি ঐতিহাসিক অর্জন ছিল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিসর বিস্তৃত করা। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতাকে এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দিয়ে সুরক্ষিত করা যায়নি, যা ভবিষ্যতের যেকোনো ক্ষমতাসীনকেও সমানভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাস দেখিয়েছে, এই অসম্পূর্ণতার মূল্য কত বড় হতে পারে।

অর্থনীতি : রাষ্ট্রের মালিকানা থেকে রাষ্ট্রের সক্ষমতা

জিয়ার আমলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক দর্শনেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা যায়। রাষ্ট্রনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ, কৃষি উৎপাদন, বাজার ও উদ্যোক্তা শক্তিকে অধিকতর জায়গা দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। অর্থনীতির ওপর রাষ্ট্রের একক মালিকানার ধারণা ধীরে ধীরে পুনর্বিবেচিত হতে থাকে।

কিন্তু বাজার নিজে কোনো পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন নয়। বাজার উৎপাদন বাড়াতে পারে, বিনিয়োগ সৃষ্টি করতে পারে, উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারে; কিন্তু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে না। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে বাজার যুক্ত হলে প্রতিযোগিতামূলক পুঁজিবাদ সহজেই পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।

তাই জিয়ার সময়ের বড় প্রশ্ন ছিল— রাষ্ট্র কতটা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। আজকের প্রশ্নটি অন্য : রাষ্ট্র কি এমন নিয়ম ও প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে পারবে, যাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা রাজনৈতিক ক্ষমতা কিনে নিতে না পারে?

আধুনিক রাষ্ট্রের সক্ষমতা তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দিয়ে শুধু মাপা যায় না। বরং দেখতে হয়—সে কর আদায় করতে পারে কি না, ব্যাংক ও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কি না, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পারে কি না, দুর্নীতি দমন করতে পারে কি না এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীকেও একই আইনের অধীন রাখতে পারে কি না।

রাষ্ট্রের বড় কাজ এখন নিজে খেলোয়াড় হওয়া নয়; খেলার নিয়মকে বিশ্বাসযোগ্য রাখা।

পাঁচ দশক পরে : সংকটের প্রকৃতি বদলেছে

২০২৬ সালের বাংলাদেশ ১৯৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের সংকটে নেই। কিন্তু দেশটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও আস্থার সংকট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। নির্বাচনি বিজয়ের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং তার সরকারের হাতে শক্তিশালী রাজনৈতিক ম্যান্ডেট রয়েছে। কিন্তু শক্তিশালী ম্যান্ডেটের সঙ্গে শক্তিশালী ঐতিহাসিক দায়িত্বও আসে।

তারেক রহমানের সামনে জিয়ার সমস্যার পুনরাবৃত্তি নেই। জিয়ার সামনে ছিল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন; তারেকের সামনে কর্তৃত্ব সীমাবদ্ধ করার প্রশ্ন।

প্রথমটি ছিল রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করার সমস্যা। দ্বিতীয়টি হলো রাষ্ট্রকে এমনভাবে স্থিতিশীল করা, যাতে কোনো ব্যক্তি বা দল ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের রাজনৈতিক সম্পদে পরিণত করতে না পারে।

এটি ক্ষমতা অর্জনের চেয়েও কঠিন রাজনৈতিক কাজ। কারণ রাজনীতি স্বভাবত ক্ষমতা সম্প্রসারণ করতে চায়; সাংবিধানিক রাষ্ট্র ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করতে চায়।

সুতরাং তারেক রহমানের ঐতিহাসিক পরীক্ষা তার জনপ্রিয়তা বা নির্বাচনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নয়; তার আসল পরীক্ষা হবে নিজের ক্ষমতার ওপর সীমা আরোপ করার রাজনৈতিক সাহস।

ম্যান্ডেটের পরে বৈধতা

নির্বাচনি বিজয় একটি সরকারকে শাসনের অধিকার দেয়; রাষ্ট্রের ওপর সীমাহীন অধিকার দেয় না।

আধুনিক গণতন্ত্রে বৈধতা একদিনের নির্বাচনে শেষ হয় না। সরকার প্রতি দিন তার বৈধতা পুনর্নির্মাণ করে—আইনের প্রতি আনুগত্য, বিরোধী মতের নিরাপত্তা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিক অধিকারের সমতার মধ্য দিয়ে। এখানেই নির্বাচনি বৈধতা ও সাংবিধানিক বৈধতার পার্থক্য।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কোনো সরকারকে নির্বাচিত করতে পারে; কিন্তু সংখ্যালঘু নাগরিকের অধিকার সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিলুপ্ত করা যায় না। গণতন্ত্রের নৈতিক শক্তি শুধু কে জিতল, সেখানে নয়; যে হারল, তার অধিকার কতটা নিরাপদ—সেখানেও।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ তাই নিয়মিত নির্বাচনের পাশাপাশি ক্ষমতার পরাজয় মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার বাইরে থাকার নিরাপত্তার ওপরও নির্ভর করবে। যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ক্ষমতায় থাকলে সবকিছু দেয়, আর ক্ষমতা হারালে সবকিছু কেড়ে নেয়, সেখানে নির্বাচন অস্তিত্বের লড়াই হয়ে ওঠে।

প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের কাজ নির্বাচনকে যুদ্ধ থেকে নিয়মে পরিণত করা।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের চেয়েও বড় প্রশ্ন : রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে শুধু প্রবৃদ্ধির হার দিয়ে পড়লে ছবিটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের আইএমএফ মূল্যায়নে রাজস্ব দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতির চাপ, আর্থিক খাতের ঝুঁকি এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পেয়েছে।

এর রাজনৈতিক অর্থ অর্থনৈতিক অর্থের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

দুর্বল রাজস্ব মানে শুধু সরকারের হাতে কম অর্থ নয়; এর অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো ও মানবসম্পদে রাষ্ট্রের বিনিয়োগের সক্ষমতা সংকুচিত হওয়া। অর্থাৎ রাজস্ব সক্ষমতা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সামাজিক সক্ষমতাও।

ব্যাংকিং খাতের সংকটও নিছক হিসাবের সমস্যা নয়। দুর্বল তদারকি, প্রভাবশালী মালিকানা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ যদি ঋণ ও আর্থিক সুবিধার বণ্টনকে প্রভাবিত করে, তা হলে অর্থনৈতিক সংকট রাষ্ট্রনৈতিক সংকটে পরিণত হয়।

যে নাগরিক নিয়ম মেনে কর দেয়, ব্যাংকে সঞ্চয় রাখে এবং আইন মানে, সে যদি একটি দুর্বল ব্যবস্থার মূল্য বহন করে; অথচ প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতা রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে দায় এড়িয়ে যায়—তা হলে ক্ষতি শুধু অর্থনীতির হয় না, রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতাও ক্ষয় হয়।

সুতরাং ব্যাংকিং সংস্কারের প্রকৃত অর্থ শুধু খেলাপি ঋণ কমানো নয়; পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি ভাঙা। একইভাবে কর সংস্কারের অর্থ শুধু রাজস্ব বাড়ানো নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে নতুন আর্থিক চুক্তি তৈরি করা—নাগরিক কর দেবেন, আর রাষ্ট্র ব্যয়ের হিসাব দেবে।

জবাবদিহি : প্রতিশোধ নয়, আইনের শাসন

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ রেখে গেছে। এসবের জবাবদিহি প্রয়োজন। কিন্তু জবাবদিহির নৈতিক পরীক্ষা তখনই আসে, যখন বিচার নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধেও যায়।

পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীনদের অপরাধের বিচার করা, অথচ নিজের দলের অপরাধ উপেক্ষা করা আইনের শাসন নয়; সেটি শুধু ক্ষমতার হাতবদল।

আইনের শাসনের সবচেয়ে কঠিন সংজ্ঞাটি সম্ভবত খুব সহজ : একই আইন প্রতিপক্ষের জন্য যেমন, নিজের মানুষের জন্যও তেমন।

তারেক রহমানের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উত্তর তাই শক্তিশালী দমনযন্ত্র নির্মাণ নয়; এমন বিচার ও জবাবদিহির ব্যবস্থা নির্মাণ করা, যা ভবিষ্যতে তার নিজের দল ক্ষমতায় থাকলেও তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
যে প্রতিষ্ঠান শুধু প্রতিপক্ষকে শাস্তি দিতে পারে, সেটি ক্ষমতার অস্ত্র। যে প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাসীনকেও থামাতে পারে, সেটিই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।

সংখ্যাগরিষ্ঠতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

বড় সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা একটি সরকারের জন্য বিরল সুযোগ। দীর্ঘদিন আটকে থাকা সংস্কার এগিয়ে নেওয়া যায়, প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা যায়, প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যেই সংখ্যাগরিষ্ঠতান্ত্রিকতার ঝুঁকি লুকিয়ে থাকে। সংসদে সংখ্যার শক্তি যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা কমিয়ে দেয়, তাহলে গণতন্ত্র নিজেই তার সীমারক্ষাকারী প্রাচীর ভাঙতে শুরু করে। সাংবিধানিক গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই— সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকার তৈরি করে, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতাও সংবিধানের ঊর্ধ্বে নয়।

একটি সত্যিকার স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা ক্ষমতাসীন দলের অপছন্দ হবে। স্বাধীন আদালত সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে পারে। কার্যকর সংসদ মন্ত্রীর ব্যাখ্যা চাইতে পারে। পেশাদার প্রশাসন আইনবিরোধী দলীয় নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করতে পারে। স্বাধীন গণমাধ্যম সরকারের জন্য অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলতে পারে।

এগুলো সরকারের দুর্বলতার লক্ষণ নয়; রাষ্ট্রের শক্তির লক্ষণ।

স্বল্পমেয়াদে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সরকারের ক্ষমতার পরিসর সীমিত করে; দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের বৈধতা বাড়ায়। নির্বাচিত রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রনায়কের পার্থক্য সম্ভবত এখানেই।

পররাষ্ট্রনীতি : আনুগত্য নয়, কৌশলগত স্বাধীনতা

বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা পররাষ্ট্রনীতি।

ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। পরিবর্তিত ভূরাজনীতি এই ভারসাম্যকে আরও জটিল করেছে। ফলে পরিণত পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়—বাংলাদেশ কার পক্ষে?

প্রশ্ন হওয়া উচিত— বাংলাদেশ নিজের পক্ষে কতটা দাঁড়াতে পারে?

সার্বভৌমত্বের আধুনিক অর্থ শুধু সীমান্তের অখণ্ডতা নয়; সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতাও। বাণিজ্য, জ্বালানি, ঋণ, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পানি ও শ্রমবাজার—প্রত্যেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতা পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে।

কৌশলগত সার্বভৌমত্বের অর্থ তাই কারও বিরোধিতা নয়; নিজের স্বার্থের সংজ্ঞা নিজে নির্ধারণ করার সক্ষমতা।

একটি নতুন রাষ্ট্রদর্শনের দিকে

তারেক রহমানের সামনে শুধু প্রশাসনিক সংস্কারের তালিকা নেই। তার সামনে বৃহত্তর একটি রাজনৈতিক নির্বাচন রয়েছে—তিনি কি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া রাজনৈতিক দর্শনকে পুনরাবৃত্তি করবেন, নাকি তাকে নতুন যুগের উপযোগী রাষ্ট্রদর্শনে রূপান্তর করবেন?

সেই রাষ্ট্রদর্শনের কেন্দ্রে থাকতে পারে এমন একটি নাগরিক বাংলাদেশ, যেখানে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়ের রাজনৈতিক অর্থ হবে সমান নাগরিক মর্যাদা; এমন সাংবিধানিক গণতন্ত্র, যেখানে ভোট ক্ষমতার উৎস হলেও সংবিধান ক্ষমতার সীমা; এমন রাষ্ট্র, যার প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তির সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল নয়; এমন বাজার, যেখানে উদ্যোক্তার স্বাধীনতা থাকবে কিন্তু রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বাজার দখল করতে পারবে না; এবং এমন পররাষ্ট্রনীতি, যেখানে সম্পর্ক থাকবে সবার সঙ্গে, কিন্তু সিদ্ধান্ত হবে বাংলাদেশের নিজের।

এগুলো আলাদা কোনো নীতিপ্যাকেজ নয়; একই রাষ্ট্রদর্শনের বিভিন্ন মাত্রা।

তার কেন্দ্রে একটি ধারণাই যথেষ্ট—ক্ষমতাকে ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।

উত্তরাধিকার : পুনরাবৃত্তি নয়, পুনর্নির্মাণ

জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিতর্ক প্রায়ই দুই প্রান্তে আটকে থাকে—মহিমান্বিত করা অথবা সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। কিন্তু ইতিহাসের প্রতি পরিণত আচরণ কোনোটিই নয়।

ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে সম্মান করার অর্থ তাকে হুবহু পুনরাবৃত্তি করা নয়। যে সমস্যার উত্তর হিসেবে একটি রাজনৈতিক দর্শনের জন্ম হয়েছিল, ইতিহাস বদলে গেলে তার মৌলিক প্রশ্নগুলোরও নতুন উত্তর প্রয়োজন।

জিয়ার সময় প্রয়োজন ছিল রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনর্গঠন; আজ প্রয়োজন সেই কর্তৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সীমাবদ্ধ করা। তার সময় জাতীয় পরিচয় নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছিল; আজ প্রয়োজন সেই পরিচয়কে সমান নাগরিকত্বের নীতিতে উন্নীত করা। তার সময় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়েছিল; আজ প্রয়োজন সেই প্রতিযোগিতাকে এমন প্রতিষ্ঠানে সুরক্ষিত করা, যাতে কোনো ভবিষ্যৎ সরকার ইচ্ছা করলেই রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করতে না পারে।

এই অর্থে জিয়াকে অতিক্রম করাই হয়তো জিয়ার সবচেয়ে গভীর উত্তরাধিকার রক্ষা করার পথ। কারণ জীবন্ত রাজনৈতিক দর্শন অতীতের বাক্য মুখস্থ করে না; বর্তমানের প্রশ্নের উত্তর দেয়।

ক্ষমতার উত্তরাধিকার থেকে রাষ্ট্রের উত্তরাধিকার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় দুর্বলতাগুলোর একটি হলো রাষ্ট্রকে ব্যক্তির সঙ্গে অতিরিক্তভাবে যুক্ত করা। সংকট এলেই আমরা একজন শক্তিশালী নেতার সন্ধান করি—তিনি রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করবেন, দুর্নীতি থামাবেন, অর্থনীতি ঠিক করবেন, প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করবেন।

কিন্তু পরিণত রাষ্ট্রের পরিচয় তার নেতার শক্তিতে নয়; নেতার অনুপস্থিতিতেও তার প্রতিষ্ঠান কতটা কাজ করে সেখানে।
একজন শক্তিশালী নেতা সংকট সামাল দিতে পারেন; শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সংকটের পুনরাবৃত্তি ঠেকায়। একজন নেতা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেন; প্রতিষ্ঠান বৈধতাকে স্থায়ী করে। একজন নেতা ক্ষমতা প্রয়োগ করেন; প্রতিষ্ঠান বলে দেয় সেই ক্ষমতা কোথায় থামবে।

জিয়াউর রহমান থেকে তারেক রহমানের রাজনৈতিক সংযোগের গভীরতম তাৎপর্য তাই পিতা থেকে পুত্রের ক্ষমতার উত্তরাধিকার নয়। এটি বাংলাদেশের অসমাপ্ত রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের দুই ঐতিহাসিক পর্ব। জিয়ার সময়ে রাষ্ট্রকে কর্তৃত্বের একটি কেন্দ্র খুঁজে নিতে হয়েছিল। তারেক রহমানের সামনে সুযোগ এবং পরীক্ষা— সেই কর্তৃত্বকে এমন প্রতিষ্ঠানের অধীন করা, যা প্রয়োজন হলে তার নিজের ক্ষমতাকেও সীমাবদ্ধ করতে পারে।

তিনি যদি তা করতে পারেন, তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার শুধু বিএনপির ইতিহাসের একটি অধ্যায় হবে না; বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তারও একটি নতুন পর্যায় শুরু হতে পারে। তখন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দলীয় পরিচয় অতিক্রম করে নাগরিক জাতীয়তাবাদে পরিণত হতে পারে; নির্বাচনি বিজয় সরকার গঠনের সংখ্যাতত্ত্ব থেকে সাংবিধানিক পুনর্গঠনের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে; অর্থনৈতিক সংস্কার প্রবৃদ্ধির প্রকল্প থেকে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার প্রকল্পে পরিণত হতে পারে; আর জবাবদিহি প্রতিশোধের ভাষা ছেড়ে আইনের শাসনের ভাষা অর্জন করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি তাই তারেক রহমান কতটা জিয়াউর রহমানের মতো হতে পারবেন, তা নয়। আরও বড় প্রশ্ন হলো—তিনি কি এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ করতে পারবেন, যেখানে ভবিষ্যতের রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য আর কোনো জিয়াউর রহমান বা তারেক রহমানের ব্যক্তিগত কর্তৃত্বের প্রয়োজন হবে না?
রাষ্ট্রের চূড়ান্ত পরিণতি শক্তিশালী নেতা নয়—শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক আধুনিকতার অসমাপ্ত যাত্রার সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা সম্ভবত এখানে—কর্তৃত্ব থেকে বৈধতা, বৈধতা থেকে প্রতিষ্ঠান, এবং প্রতিষ্ঠান থেকে জবাবদিহি।

এই যাত্রা সম্পূর্ণ হলেই রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রাষ্ট্রীয় উত্তরাধিকারে পরিণত হবে। অন্যথায় আমরা কেবল শাসক বদলাতে পারব—রাষ্ট্রের চরিত্র নয়।

অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে


  বিষয়:   বাংলাদেশ  রাষ্ট্রদর্শন  অসমাপ্ত  যাত্রা  জিয়াউর  রহমান  তারেক রহমান  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: