বাংলাদেশে পে-স্কেলের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির গল্প

ড. মো. আনোয়ার হোসেন

মতামত

বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বেতন

2026-09-02T05:42:45+00:00
2026-09-02T05:42:45+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
বাংলাদেশে পে-স্কেলের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির গল্প
ড. মো. আনোয়ার হোসেন
প্রকাশ: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশে নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো প্রদানের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুষ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, মূল্যস্ফীতি সমন্বয়, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, মেধা আকর্ষণ ও সংরক্ষণ, কাজের অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্য হ্রাস, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করা। কিন্তু বাংলাদেশে পে-স্কেল প্রদানের মাধ্যমে কখনো মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বরং অনেক ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই প্রথম পে-স্কেল কার্যকর হয়। এই কাঠামোতে কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ১২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে কর্মচারীদের কাজের অনুপ্রেরণা বাড়ানোই ছিল এর মূল লক্ষ্য। দক্ষতা বৃদ্ধি ও মেধা আকর্ষণের জন্য এই স্কেলটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ ছিল। তবে সদ্য স্বাধীন দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে প্রত্যাশা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

Advertisement
প্রথম বেতন কাঠামোর মাধ্যমে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাজারে তীব্র মূল্যস্ফীতি থাকায় কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান আশানুরূপভাবে উন্নত হতে পারেনি। মেধা আকর্ষণ ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যটি প্রথমবারেই বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বড় ধাক্কা খায়। ফলে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে এই কাঠামো আশানুরূপ সফল হতে পারেনি।

১৯৭৭ সালের ১ জুলাই দেশে দ্বিতীয় জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। এই স্কেলের মাধ্যমে বেতন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং বৈষম্য হ্রাস করা এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা রক্ষা ও কাজের অনুপ্রেরণা জোগাতে সরকার এটি প্রণয়ন করে। প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা আনাই ছিল এই নতুন কাঠামোর লক্ষ্য।

দ্বিতীয় পে-স্কেল চালুর পরও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। কর্মচারীদের প্রকৃত আয় না বাড়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়নি। মেধা সংরক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যটি অধরাই থেকে যায়। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই স্কেলের প্রাপ্তি ছিল সামান্য। ফলে বৈষম্য হ্রাস করার মূল পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

১৯৮৫ সালের ১ জুন তৃতীয় জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়। এই স্কেলে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ছিল এর অন্যতম চালিকাশক্তি। মেধা আকর্ষণ ও মেধা সংরক্ষণের জন্য এই স্কেলটি ডিজাইন করা হয়েছিল। 

কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা কিছুটা বাড়লেও ঘুষ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়নি। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই স্কেল আংশিক ভূমিকা রেখেছিল। তবে বাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার মানের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটেনি। দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা অর্জনের লক্ষ্যটি ব্যাহত হয়েছিল। ফলে বৈষম্য হ্রাসের উদ্দেশ্যটি পুরোপুরি সফল হতে পারেনি।

১৯৯১ সালের ১ জুলাই চতুর্থ জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করা হয়। এই স্কেলের মাধ্যমে বেতন গড়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। গণতান্ত্রিক পরিবেশে কর্মচারীদের কাজের অনুপ্রেরণা বাড়ানোই ছিল এর লক্ষ্য। মেধা আকর্ষণ ও মেধা সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রশাসনকে গতিশীল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও বৈষম্য হ্রাস ছিল এর প্রধান উদ্দেশ্য।

চতুর্থ পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজারে তীব্র মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়। ফলে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান আশানুরূপ স্তরে পৌঁছাতে পারেনি। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যটি কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। 

১৯৯৭ সালের ১ জুলাই পঞ্চম জাতীয় বেতন কাঠামো কার্যকর হয়। এই স্কেলে কর্মচারীদের মূল বেতন প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। বৈষম্য হ্রাস ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করা এর মূল লক্ষ্য ছিল। মেধা আকর্ষণ, মেধা সংরক্ষণ, কাজের অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়ন ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

এই স্কেল চালুর পর বাজার ব্যবস্থাপনায় অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। ফলে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের মূল লক্ষ্যটি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। কর্মচারীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেলেও দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায়নি। আর্থিক নিরাপত্তা প্রাপ্তি ছিল খুবই সীমিত। ফলে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করা হয়েছিল। এই স্কেলের মাধ্যমে বেতন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এর উদ্দেশ্য ছিল। মেধা আকর্ষণ ও মেধা সংরক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়। 

ষষ্ঠ বেতন কাঠামো চালুর পর বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়ে যায়। ফলে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের লক্ষ্যটি পুরোপুরি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। বৈষম্য হ্রাস করার পরিবর্তে উচ্চ ও নিম্ন পদের দূরত্ব বেড়েছিল। দুর্নীতি প্রতিরোধ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনার ক্ষেত্রে এর অবদান ছিল নগণ্য। 

২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করা হয়। এই স্কেলের অধীনে কর্মচারীদের বেতন প্রায় ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। 

সপ্তম পে-স্কেল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি ঘটে। ফলে কর্মচারীদের প্রকৃত জীবনযাত্রার মান খুব একটা উন্নত হয়নি। দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং বৈষম্য হ্রাসের উদ্দেশ্যগুলো অধরাই থেকে গিয়েছিল। আর্থিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রাপ্তি ছিল অত্যন্ত সীমিত। 

২০১৫ সালের ১ জুলাই সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়। এই স্কেলে গ্রেড ভেদে মূল বেতন ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এর মূল লক্ষ্য ছিল। অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর বাজারে কৃত্রিম মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়েছিল। ফলে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের বড় প্রত্যাশাটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায়। বৈষম্য হ্রাস করার পরিবর্তে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছিল। আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা বাড়লেও ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। মেধা সংরক্ষণের লক্ষ্যটি পুরোপুরি অর্জিত হতে পারেনি।

বর্তমান ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদিত হয়েছে, যা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। এই নতুন বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পে-স্কেলটি তিনটি ধাপে ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে এবং ২০২৮ সাল থেকে নতুন ভাতা কার্যকর হবে।

নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিম্নআয়ের কর্মচারীদের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা হওয়ায় তারা আর্থিক নিরাপত্তা লাভ করবে। বাজারে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের পরিবারকে বড় স্বস্তি দিতে পারে। তবে বাজারব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের এই লক্ষ্যটি ব্যাহত হতে পারে।

এই স্কেলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যকার আর্থিক বৈষম্য হ্রাস করা সম্ভব হবে। নিম্নস্তরের কর্মচারীরা এর ফলে সামাজিকভাবে আরও বেশি মর্যাদা লাভ করবে। বৈষম্য হ্রাসের এই নীতিটি সরকারি চাকরিতে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ দূর করতে অত্যন্ত গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির কারণে মূল্যায়ন পাওয়ায় তাদের দাফতরিক কাজে আরও বেশি নিয়োজিত থাকা উচিত। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কাজের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে। ফলে একটি গতিশীল, দক্ষ ও জনমুখী সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে।


সরকারি কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির ফলে ঘুষ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বড় অগ্রগতি নিশ্চিত হতে পারে। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় কর্মচারীদের অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জনের প্রবণতা শতভাগ কমে আসা উচিত। তবে শুধু বেতন বৃদ্ধি নয়, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্নীতি প্রতিরোধের মূল লক্ষ্যটি অর্জন করা কঠিন হবে।

নবম পে-স্কেলের আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো সরকারি চাকরিতে মেধা আকর্ষণ করতে সক্ষম হতে পারে। তরুণ ও যোগ্য প্রার্থীরা এখন করপোরেট খাতের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে আসতে আগ্রহী হতে পারে। একই সঙ্গে মেধা সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রশাসনের গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হতে পারে। এই বেতন কাঠামোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে মেধার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে, যা ধাপে ধাপে দেওয়া হবে। এই বিশাল অর্থ বাজারে আসার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক গতিশীলতা কিছুটা বৃদ্ধি পাবে। সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে খানিকটা নতুন জোয়ার আসতে পারে। তবে এই বিপুল অর্থ সরবরাহ বাজারে যেন নতুন করে মূল্যস্ফীতি না ঘটায়, সেদিকে সতর্ক নজর রাখতে হবে।

বিগত আটটি পে-স্কেলের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রত্যেকবারই বেতন বৃদ্ধির পর বাজারব্যবস্থার অস্থিতিশীলতার কারণে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বর্তমান ২০২৬ সালের এই অনুমোদিত নবম জাতীয় পে-স্কেল যেন অতীতের ব্যর্থতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারে, সে জন্য বাজার মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি যদি সততা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা যায়, তবেই এই বিশাল ব্যয়ের সঠিক সুফল দেশের সাধারণ জনগণ ভোগ করতে পারবে।

প্রাবন্ধিক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   বাংলাদেশ  পে-স্কেল  প্রত্যাশা  প্রাপ্তি  গল্প 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: