পশ্চিমাদের সামরিক কৌশলকে ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো’ বলে বিদ্রূপ করলেন ইরানি স্পিকার গালিবাফ।
ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পশ্চিমা সামরিক কৌশল ও মহড়াকে তীব্র ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপ করেছেন দেশটির প্রভাবশালী পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোর নামকরণ নিয়ে পরিহাস করেন।
গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপগুলোকে ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো’ এবং ‘অপারেশন ফক্সিওস’ হিসেবে পুনর্ন নামকরণ করে প্রচার করেন। তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কৌশলগত উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে এবং উভয় পক্ষই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে লিপ্ত।
গালিবাফ তার পোস্টে সরাসরি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া পশ্চিমাদের পরিকল্পনাগুলো আদতে কোনো কার্যকর ফল বয়ে আনতে পারছে না। তিনি বিদ্রূপাত্মক ঢঙে লিখেছেন, ‘অপারেশন ট্রাস্ট মি ব্রো ব্যর্থ হয়েছে।’ এখানেই থেমে না থেকে তিনি আরও যোগ করেন, এখন পশ্চিমা শক্তিগুলো আবারও তাদের চেনা ছক বা ‘অপারেশন ফক্সিওস’ নামক নিয়মিত নাটকে ফিরে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ট্রাস্ট মি ব্রো’ শব্দবন্ধটি ব্যবহারের মাধ্যমে গালিবাফ মূলত মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য এবং সামরিক সক্ষমতার অসারতাকেই বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তার মতে, পশ্চিমা বিশ্ব কেবল মুখের কথায় বা ফাঁকা আশ্বাসে নিজেদের জয়ী প্রমাণ করতে চাইছে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা মনে করেন, তেহরানকে চাপের মুখে রাখার জন্য আমেরিকা ও তার মিত্ররা যে ধরনের সামরিক গেম-প্ল্যান বা নকশা তৈরি করছে, তা কেবল নামসর্বস্ব। গালিবাফের এই টিপ্পনী মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ জনমতকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল।
তেহরান বারবারই দাবি করে আসছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেকোনো ধরনের বহিরাগত আগ্রাসন মোকাবিলায় সক্ষম এবং ওয়াশিংটনের কৌশলগুলো কেবল প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। গালিবাফের এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টটি ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং ইরানি গণমাধ্যমগুলো একে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে একটি সফল ‘ডিজিটাল কাউন্টার অ্যাটাক’ হিসেবে বর্ণনা করছে।
সামগ্রিকভাবে, মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের এই বিদ্রূপাত্মক অবস্থান এটাই ইঙ্গিত দেয়, ইরান বর্তমানে পশ্চিমাদের কোনো হুমকি বা সামরিক মহড়াকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না। বরং তারা বিষয়টিকে হাস্যকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
এই ধরনের বাগযুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে গালিবাফের এই বিদ্রূপের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব না পাওয়া গেলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্টটি ঘিরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ