ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি উদযাপন করে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেন গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তার ব্যক্তিগত ‘স্বপ্ন’ প্রকাশ করছেন।
বিশেষ করে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করে একটি বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন পাস হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় দেশটির একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে চরম অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ‘ভয়েসেস ইন মাই হেড’ ট্রেন্ড অনুসরণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা ফাঁসির দড়ির ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিওর নেপথ্যে বেন গভিরকে বলতে শোনা যায়, তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার স্বপ্ন দেখেন।
এই ধরনের ঘৃণা ও সহিংসতা উস্কে দেওয়া বিষয়বস্তু প্রচার করার ফলে ইসরায়েলের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সমালোচকরা বলছেন, একজন সরকারি মন্ত্রীর এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করে একটি বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন পাস করা হয়েছে। শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই আইনের বিরোধিতা করে আসছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বেন গভিরের এই ভিডিওটি সেই বিতর্কিত আইনকে সমর্থন করার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সরাসরি বিদ্বেষ ছড়ানোর একটি প্রচেষ্টা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের উস্কানিমূলক বিষয়বস্তু প্রচার করে তিনি মূলত একটি চরমপন্থী মনোভাবকে উস্কে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পর ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বেন গভিরের পদত্যাগ দাবি করেছে। তারা বলছেন, এ ধরনের মন্তব্য কেবল ফিলিস্তিনিদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে না, বরং এটি বন্দিদের মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেন গভিরের এই মানসিকতা ইসরায়েলি প্রশাসনের প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছে। বর্তমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
সময়ের আলো/টিএইচ