গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর এক বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর নেতা খলিল আল-হায়ার ছেলে আজম খলিল আল-হায়া নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৭) আল-শিফা হাসপাতালের সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরা অ্যারাবিক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসিম নাঈমও আজম আল-হায়ার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে হামাস নেতা খলিল আল-হায়া নিজেই জানিয়েছিলেন, তার ছেলে এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন, তবে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হামাসের নির্বাসিত এই নেতার জন্য এটি ব্যক্তিগতভাবে এক অপূরণীয় ক্ষতি, কারণ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়া তার সন্তানদের মধ্যে আজম চতুর্থ।
খলিল আল-হায়া মোট সাত সন্তানের জনক, তবে বিভিন্ন সময়ে তাকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় তিনি এর আগে তার আরও তিন ছেলেকে হারিয়েছেন। আল-হায়াকে হত্যার জন্য ইসরায়েল বহুবার চেষ্টা চালালেও তিনি প্রতিবারই অল্পের জন্য বেঁচে যান। তবে প্রতিটি হামলাই তার পরিবারের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে।
গত বছর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো এক ইসরায়েলি হামলায় খলিল আল-হায়ার এক ছেলে নিহত হয়েছিলেন, যদিও সে যাত্রায় খলিল নিজে প্রাণে বেঁচে যান।
এর আগে ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে গাজায় তাকে লক্ষ্য করে চালানো দুটি পৃথক বিমান হামলায় তার আরও দুই ছেলে প্রাণ হারান। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে খলিল আল-হায়া এবং তার পরিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়েছেন, যা আজমের মৃত্যুর মাধ্যমে নতুন করে সামনে এল।
গাজা সিটিতে চালানো এই সাম্প্রতিক হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হামাস এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের হামলা ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামকে দমাতে পারবে না।
বর্তমানে গাজায় চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই ঘটনাটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা সংঘাতকে আরও উস্কে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ