বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়ানো হান্টাভাইরাস কি কোভিডের মতো আবারও সেই দুঃসহ দিনগুলো ফিরিয়ে আনবে? আবারও কি শুরু হবে লকডাউন কিম্বা মাস্কের বাধ্যবাধকতা? সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দেওয়া এমন শত শত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস নিয়ে কোভিডের মতো আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই; কারণ এই ভাইরাসের প্রকৃতি ও সংক্রমণের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও-এর মহামারি ও অতিমারি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ড. মারিয়া ভ্যান কারখোভ বলেন, স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটি কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়। এটি অনেক আগে থেকেই পৃথিবীতে বিদ্যমান এবং এর সংক্রমণের ধরন একেবারেই আলাদা। বর্তমানে একটি জাহাজের নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে যে প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে, তাকে কোনোভাবেই নতুন কোনো অতিমারির শুরু বলা যাবে না।
সংস্থাটির জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচির পরিচালক ড. আবদিরাহমান মাহামুদ জানান, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষে এর সংক্রমণ অত্যন্ত বিরল। কেবল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে দীর্ঘক্ষণ থাকলে এই ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। ২০১৮-১৯ সালে আর্জেন্টিনায় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলেও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল। তিনি আশ্বস্ত করেন, কন্টাক্ট ট্রেসিং এবং আইসোলেশন নিশ্চিত করা গেলে এই সংক্রমণের শিকল ভেঙে ফেলা অত্যন্ত সহজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোভিড-১৯ বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ব্যাপক জনপদে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা হান্টাভাইরাসের ক্ষেত্রে অসম্ভব। হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা বিষ্ঠার সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। মানব থেকে মানব সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি কেবল ‘অ্যান্ডেস’ স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাও সীমিত পরিসরে। যদিও এককভাবে বিবেচনা করলে হান্টাভাইরাস কোভিডের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী, কিন্তু এর সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম হওয়ায় এটি বিশ্বব্যাপী মহামারির রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ভাইরাসটির সুপ্তিকাল ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, তাই সামনে আরও কিছু আক্রান্তের খবর পাওয়া যেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর ঝুঁকি খুবই কম।
/কহু