রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ও দৌলতদিয়া ইউনিয়ন এলাকায় পদ্মা নদীতে একাধিক ড্রেজার দিয়ে রাতের আঁধারে বালু কেটে বিক্রি করছে প্রভাবশালী একটি মহল। এভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী ভূমি ক্ষয় এবং মিঠা পানির মাছের বিলুপ্তি ঘটছে। এতে স্থানীয় আবাদি জমি এবং বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কলাবাগান এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বাল্কহেডে তোলা হচ্ছে। পরে এসব বাল্কহেড দৌলতদিয়াসহ মানিকগঞ্জ, পাবনা ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এভাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০-৭০ বাল্কহেড বালু তোলা হচ্ছে। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৭-৮ লাখ ফুট বালু বিভিন্ন জেলায় টোকেনের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে। তারা সতর্ক রয়েছে, কেউ যেন ছবি তুলতে না পারে।
এর আগে, গত ২১ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান। সে সময় দশজনকে আটক করে প্রত্যেককে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এখনও খনন যন্ত্র এবং বাল্কহেড প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বালু উত্তোলনে নাম আসে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার। তিনি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ৫ আগস্টের পর থেকেই বালু উত্তোলন করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, যেদিন বাল্কহেডসহ দশজন ধরা পড়ছে, তার একদিন পর থেকেই সেই ক্ষতি পোষানোর জন্য দ্বিগুণ গতিতে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা নেই। তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এর সঙ্গে অনেকেই জড়িত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কৃষক বলেন, ‘রাতের অন্ধকারে প্রতিদিন নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আগে একটি মেশিন থাকলেও এখন দুটি মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ জানে। তাদের সামনেই রাত ৮টা-৯টা থেকে শুরু করে ভোর ৬টা-৭টা পর্যন্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন হলে নদীভাঙনের কবলে পড়বে এলাকা। এতে শত শত হেক্টর আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, ‘পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। এভাবে কেউ বালু উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। গত কিছুদিন আগে সারারাত পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তখন আমি দশজনকে ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছি এবং সেই জব্দ করা মেশিন ও বাল্কহেড এখানো প্রশাসনের হাতে রয়েছে।’
/মহু