দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌরুটের পরিত্যক্ত ৫ নম্বর ফেরি ঘাটটি দীর্ঘ ৪ বছর পর পুননির্মাণের কাজ চলছে। ঘাটটি চালু হলে যাত্রী ও যানবাহন সহজেই নদী পার হয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে পারবে।
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙন ও নাব্যতা সংকটের কারণে চার বছর আগে ঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানবাহন পারাপারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে অন্য ঘাটগুলোতে। বিশেষ করে ঈদ ও বিভিন্ন ছুটির সময়ে ভোগান্তিতে পড়তে হতো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘাটটি পুনরায় চালু হলে ফেরি পারাপারে গতি বাড়বে, কমবে যানজট ও অপেক্ষার সময়। একই সঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য।
জানা গেছে, দৌলতদিয়ায় ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও ১, ২, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাটটি বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। এর মধ্যে ১ ও ২ নম্বর ঘাট দীর্ঘদিন যাবৎ কয়েকটি সিমেন্ট কোম্পানির দখলে রয়েছে। সেই ২টি ঘাট প্রতিদিন সিমেন্ট লোড-আনলোডে কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবছরে এই ঘাট সংস্কারের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ আসলেও দৃশ্যমান কোনো সংস্কারের কাজ হয়নি।
দৌলতদিয়া বিআইডব্লিউটিসির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ৭টি ফেরিঘাটের মধ্যে মাত্র ৩, ৪ ও ৭ নম্বর এই তিনটি ঘাট দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করে আসছে বিআইডব্লিউটিসি। ২০২২ সালে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর কবলে ৫ নম্বর ঘাটটি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। তারপর ঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়।
দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, ‘ঘাটটি চালু হলে এলাকাটি আবার জাঁকজমক হয়ে উঠবে। ঘাটের দুপাশ দিয়ে খাবার হোটেল ও ছোট দোকান গড়ে উঠবে। এতে অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ ৫ নম্বর ঘাটটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঘাটটির পুনঃনির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ঘাটটি চালু হলে আমাদের সক্ষমতা বাড়বে।’
/মহু