চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গল নিধন, হলগুলোতে বন্যপ্রাণীর উৎপাত

চবি প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ও জঙ্গল নিধনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এর

2026-05-08T13:19:12+00:00
2026-05-08T15:04:28+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জঙ্গল নিধন, হলগুলোতে বন্যপ্রাণীর উৎপাত
চবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১:১৯ পিএম  আপডেট: ০৮.০৫.২০২৬ ৩:০৪ পিএম
পাহাড় ও জঙ্গল নিধনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ও জঙ্গল নিধনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে এর জীববৈচিত্র্য। হলগুলোতে দেখা দিয়েছে বন্যপ্রাণী ও সাপের আতঙ্ক।

জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরা ও টেলিটক পাহাড়সহ বেশ কয়েকটি পাহাড়ে গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। বন-জঙ্গল উজাড়ের পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে বিশেষ করে শাহজালাল হল ও এ এফ রহমান হলে কিছু বিষধর সাপের দেখা মেলে। সাপের কামড়ে ২-৩ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ারও ঘটনাও ঘটে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন-জঙ্গল, পাহাড়ে অপরিকল্পিতভাবে আবাদি জমি তৈরি, শিক্ষার্থীদের ঘনঘন পাহাড়ে বিচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত আগুন ধরানোর কারণে বন্য প্রাণীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হয়েছে। তারা আতঙ্কে লোকালয়ের দিকে ছুটছে।

অপরদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছপালা কেটে ফেলা, ঝোপঝাড়-জঙ্গল সাফ করা, স্থানীয়দের আবাদি জমি তৈরি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নতুন ভবন নির্মাণ ও দোকানপাটসহ বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ব্যাপক হুমকির মুখে পড়েছে। প্রশাসন এসব কিছু ঠেকাতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় ব্যর্থ।

এ বিষয়ে চাকসুর সমাজসেবা ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক তাহসিনা রহমান বলেন, ‘পাহাড় যে ধ্বংস করা হচ্ছে, ওখানে যে আগুন লাগানো হচ্ছে, এটা নিয়ে আমরা মোটামুটি বিগত দুই-আড়াই মাস ধরেই কাজ করছি। একটা ঘটনা এমন ছিল, যেখানে স্থানীয়রা আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, যাতে ওই জমিটাতে পরবর্তীতে চাষ করা যায়। শিক্ষার্থীদের দ্বারাও অনাকাঙ্ক্ষিত আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন চেষ্টা করছি, বিষয়গুলো একটা ল-এনফোর্সমেন্টের ভেতরে নিয়ে আসার এবং এটার জন্য প্রোপার কোনো শাস্তির বিধান আনার। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভেতরে ময়লা-আবর্জনা পরিশোধনের বিষয়ে কাজে হাত দিতে যাচ্ছি। গত মাসে আমাদের বাজেট পাস হয়েছে। আমরা শীঘ্রই কাজ শুরু করে দিবো।’

পরিবেশ ও ভূগোলবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইকবাল সরোয়ার বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে। এতে ক্যাম্পাসের ভূমি ব্যবহারের ওপরও পরিবর্তন হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রাকৃতিক কারণেও ক্ষতি হচ্ছে। ক্যাম্পাসে আসলে অনেক ধরনের কর্মকাণ্ড হচ্ছে এখন। ইনফ্রাস্ট্রাকচার নির্মাণ হচ্ছে। যেমন, মেরিন সায়েন্স ফ্যাকাল্টি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একটা বিশাল মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ করছে। এটা আসলে দেখার বিষয় কতদিনে বাস্তবায়ন হয়। সবাইকে সচেতন হতে হবে, অযথা গাছ কাটা যাবে না, রাতের বেলায় নির্মাণ কাজগুলো বন্ধ করতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে যদি আমরা সচেতন হয়ে এগিয়ে আসি, তাহলে আমরা ক্যাম্পাসকে আবার সুন্দর, নির্মল, সবুজ ক্যাম্পাসে পরিণত করতে পারবো।’

অন্যদিকে উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জীববৈচিত্র্যের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে অসংখ্য দুর্লভ উদ্ভিদ, পতঙ্গভুক গাছ এবং বন্যপ্রাণীর স্থায়ী আবাসস্থল রয়েছে, যা এই ক্যাম্পাসকে অন্য সব জায়গা থেকে আলাদা করেছে। বন্যপ্রাণীরা মানুষের ক্ষতি করতে লোকালয়ে আসে না। বরং বনের ভেতর খাদ্যের অভাব এবং মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আবাসের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় তারা খাবারের সন্ধানে বাইরে বেরিয়ে আসে। এজন্য ক্যাম্পাসে বিদেশি বা এক্সোটিক গাছের পরিবর্তে বেশি করে দেশজ ফলের গাছ রোপণ করা প্রয়োজন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন বা উদ্ভিদ উদ্যানটি শুধুমাত্র সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক গবেষণার জায়গা। এই উদ্যানটিকে একটি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে বাউন্ডারি দিয়ে ঘিরে রাখা এখন সময়ের দাবি।’

উল্লেখ্য, এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিনকে চারবার ফোন করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

/মহু


  বিষয়:   চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়  জঙ্গল  বন্যপ্রাণী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: