১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে দিনাজপুরে জলবায়ু ধর্মঘট ও পদযাত্রা করেছেন শতাধিক তরুণ কর্মী।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল, ‘ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে, জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসঙ্গে।’
সমাবেশে রঙিন ব্যানার ও পোস্টার হাতে তরুণদের স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা। ‘ভুয়া সমাধান নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি চাই’, ‘জীবাশ্ম মুক্ত বাংলাদেশ চাই’, ‘সৌর শক্তি বাড়াও, দূষণ কমাও’ ও ‘আমার ভবিষ্যৎ, আমার অধিকার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় কোর্ডিনেটর জিলহজ্জ সরকার, দোস্ত এইড বাংলাদেশের আব্দুল জব্বার, ইয়ুথনেট দিনাজপুর জেলা কোর্ডিনেটর আব্দুল আহাদ আল মামুন, ক্লিন দিনাজপুর সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম রাজু, ভিএসডিএ এর প্রতিনিধি শামিম, শিক্ষার্থী ও যুব প্রতিনিধিরা।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় কোর্ডিনেটর জিলহজ্জ সরকার বলেন, ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তরুণরাই এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।’
দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল জব্বার বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌর ও বায়ু শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।’
ইয়ুথনেট গ্লোবাল এট জেলা কোর্ডিনেটর আব্দুল আহাদ আল মামুন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী তরুণ প্রজন্ম। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমরা রাজপথে নেমেছি।’
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, ‘সরকারের ঘোষিত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা সময়োপযোগী হলেও এর বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রোডম্যাপ জরুরি। আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তরই হতে পারে বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের পথ।’
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা জ্বালানি সার্বভৌমত্বের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
তাদের দাবি, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা এখনো বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, ডিজেল ও কয়লার দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে লোডশেডিং বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে।
তাদের মতে, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
বক্তারা রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড, সোলার সেচে প্রণোদনা এবং নবায়নযোগ্য প্রকল্পে সরকারি জমি ব্যবহারে পিপিপি মডেল চালুর আহ্বান জানান।
তরুণরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ফ্রাইডেস ফর ফিউচার বাংলাদেশ, ইয়ুথনেট গ্লোবাল, ৩৫০ বাংলাদেশ ও মুক্ত চিন্তা যুব সেবা সংঘের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছিলো দোস্ত এইড বাংলাদেশ, নক্ষত্র যুব কল্যাণ সংস্থা, ভিএসডিএ, ক্লিন মসজিদ বাংলাদেশ, ক্লিন দিনাজপুর, রূপান্তর, স্নিগ্ধা ইয়ুথ উইমেন সোসাইটি, দিনাজপুর কমিউনিটি ফোরাম এবং নকশি কুঠ।
প্রসঙ্গত, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালে স্কুলের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আন্দোলনের সূচনা করেন। তার উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে তরুণদের নেতৃত্বে জলবায়ু আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই দিনে দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এই কর্মসূচি পালিত হয় বলে আয়োজকেরা জানান।
সময়ের আলো/মহু/জোই