স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই মাসে আমাদের সন্তানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে লড়াই করেছে, তাকে আমরা ‘জুলাই যুদ্ধ’ বলি। এই যুদ্ধের মাধ্যমে দেশে পরিবর্তন এসেছে এবং নতুন নির্বাচনের পর মানুষ এই সরকারের প্রতি বুকভরা আশা নিয়ে আছে। বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। বিদেশে অর্থ পাচার, ব্যাংক লুটপাট এবং প্রশাসনকে ধ্বংস করা হয়েছিল। সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আমরা আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছি।
শুক্রবার (৮ মে) বেলা ১২টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পতিসর রবীন্দ্র কাছারি বাড়িতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, একটি পক্ষ এই পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছে। তারা ছোটোখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আমরা চাই না দেশে আর কোনো অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যখন এখানে আসতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এটি ছিল তার সাহিত্যিক জীবনের বাইরের এক অনন্য মানবিক দিক। আমি কোনো তাত্ত্বিক বা পণ্ডিত নই, তবে আমি সাহিত্য ভালোবাসি— রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য আমাকে টানে। যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা পড়ে বা গান শোনে, সে নিঃসন্দেহে একজন ভালো মানুষ হয়।
তিনি নিজের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার বাবা একজন দাপুটে রাজনীতিবিদ ছিলেন। তিনি প্রতিদিন প্রাতঃভ্রমণ শেষে ফিরে রবীন্দ্রনাথের ‘শাহজাহান’ কবিতাটি আবৃত্তি করতেন। কবিতা, গান, নাটক—সর্বত্রই রবীন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। ‘গীতাঞ্জলি’ লিখে তিনি বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায়ই মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও শেষ করা যায় না।
রাজনীতির নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা সারাজীবন রাজনীতি করেছি, কিন্তু আমাদের রাজনীতি সবসময় সুন্দর বা পরিচ্ছন্ন ছিল না। এ দেশের মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সবসময় আসেনি।
হতাশাবাদীদের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি গোষ্ঠী আছে যারা সারাক্ষণ হতাশায় ভোগে এবং সমাজকে অস্থির রাখতে চায়। আমি নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তির নাম নিতে চাই না, তবে আমাদের মনে রাখতে হবে—আমাদের মূল পরিচয় আমরা বাংলাদেশী। ১৯৭১ সালের নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি এবং বারবার লড়াই করেই আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছি। এই অর্জন এমনি এমনি আসেনি।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মিজানুর রহমান মিনু, ভূমিমন্ত্রী। আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী। অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জাতীয় সংসদের হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী।
নওগাঁর বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যবৃন্দ, শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, মোস্তাফিজুর রহমান, এনামুল হক, ফজলে হুদা, ইকরামুল বারি টিপু ও জাহিদুল ইসলাম ধলু। এম. মুশফিকুল ফজল আনসারী, মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সময়ের আলো/জোই