আগামী ১৪ মে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাইওয়ান সংকট ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই ট্রাম্প-শি জিনপিংয়ের এই আসন্ন বৈঠক নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সফরটি আগে একবার পেছানো হয়েছিল।
সফরের প্রাক্কালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বৈঠক অবশ্যই চীনের ‘এক-চীন নীতি’ এবং দুই দেশের পূর্ববর্তী যৌথ ইশতেহার মেনে হতে হবে। তাইওয়ান ইস্যুকে চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাইওয়ানের বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড এবং ওই অঞ্চলের শান্তি কখনোই একসাথে চলতে পারে না। সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে।
এদিকে সফরের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্ট শি-এর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি এবং আমি মনে করি এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি বৈঠক হবে।’ ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিরও প্রশংসা করেন তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, এবারের সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন এক ডজন মার্কিন শীর্ষ কোম্পানির প্রতিনিধি দল। যদিও ২০১৭ সালের সফরে এই সংখ্যা ছিল ২৯, এবার তা কমিয়ে সীমিত করা হয়েছে। আমন্ত্রিতদের তালিকায় অ্যাপল, এনভিডিয়া, কোয়ালকম, সিটিগ্রুপ এবং বোয়িং-এর মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব ব্যবসায়ীরা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজেও অংশ নেবেন।
দীর্ঘদিন ধরে চলা বাণিজ্য যুদ্ধ এবং তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনার মাঝে এই সফরকে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার বরফ গলানোর একটি বড়ো সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : পিপলস ডেইলি চায়না, সিনহুয়া, আনাদোলু এজেন্সি।
সময়ের আলো/জেডি