ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ চেষ্টার মধ্যে এবার দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৮ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভেনেজুয়েলার একটি পুরনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩ দশমিক ৫ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলার যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এই সংবেদনশীল পদক্ষেপটি গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বকে এক নতুন বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের অধীন জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভেনেজুয়েলা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে অপসারণের ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি আবারও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মূলধারায় ফিরে আসছে।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি (আইএইএ) জানিয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর এই অভিযানে ইউরেনিয়ামগুলো স্থল ও সমুদ্রপথে নিরাপদে উত্তর আমেরিকায় সরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে সংগৃহীত এই পারমাণবিক উপাদানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের জ্বালানি বিভাগের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন কারাকাসের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে সক্রিয় হয় এবং এরই মধ্যে কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা ভেনেজুয়েলা সফর করেছেন।
দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি কাটিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলা তাদের দূতাবাসও পুনরায় খুলেছে। এই ধারাবাহিকতায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ভাণ্ডারের অধিকারী ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্কের নতুন দিগন্তকে ব্যবসায়িক বিশ্লেষকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে গণতন্ত্রপন্থী কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সমর্থন দেওয়ায় এবং নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে কোণঠাসা করার নীতি গ্রহণ করায় অনেকে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তা সত্ত্বেও সামরিক ও পারমাণবিক নিরাপত্তার প্রশ্নে এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সময়ের আলো/টিএইচ