পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৮তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণের পরপরই বদলে গেছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় বা ‘বায়ো’। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও জল্পনার পর পরিবর্তিত প্রোফাইলেও মমতা ‘সাবেক’ বা ‘প্রাক্তন’ শব্দটি সরাসরি ব্যবহার করেননি।
এর পরিবর্তে তিনি লিখেছেন—‘পশ্চিমবঙ্গের ১৫তম, ১৬তম ও ১৭তম বিধানসভার মুখ্যমন্ত্রী’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মমতার এই পদক্ষেপকে অবশেষে ‘পরাজয় স্বীকার’ করার একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১১টা পর্যন্ত মমতার ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলের প্রোফাইলে লেখা ছিল ‘অনারেবল চিফ মিনিস্টার, ওয়েস্ট বেঙ্গল’ বা পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। তবে রাজভবনে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ঠিক পরেই তিনি এই পরিবর্তন আনেন।
নতুন পরিচয়ে নিজেকে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত প্রোফাইল পরিবর্তন না করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল এবং অনেক ব্যবহারকারী ইলন মাস্কের কাছে তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার দাবিও জানিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি ‘প্রাক্তন’ শব্দটি ব্যবহার না করে টানা তিন মেয়াদের বিধানসভার উল্লেখ করার মাধ্যমে মমতা বেশ চতুর রাজনৈতিক চাল চেলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি যেমন তার দীর্ঘ শাসনকালকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তেমনি কৌশলে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে আইনগতভাবে গত ৭ মে রাজ্যপাল আরএন রবি বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই মমতার মুখ্যমন্ত্রিত্বের সাংবিধানিক অবসান ঘটেছিল। তবুও তার প্রোফাইলে ‘সাবেক’ শব্দটি না থাকা নিয়ে শুভেন্দু শিবিরের পক্ষ থেকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
কলকাতার রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মমতা শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার পালাবদলকে অনেকটা বাধ্য হয়েই মেনে নিলেন। টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার এই ‘বায়ো’ বদল মূলত একটি যুগের অবসানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে প্রোফাইলে শব্দের কারিকুরি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে হাস্যরস ও আলোচনা থামছে না।
শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের এই সন্ধিক্ষণে মমতার এমন ডিজিটাল বার্তা আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: মমতার ‘এক্স’ হ্যান্ডেল