মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লিপনা শেষ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক দশকের মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক একাধিপত্য চ্যালেঞ্জ করে রাশিয়া এবং চীন একটি নতুন ‘নিরাপত্তা স্থাপত্য’ বা

2026-05-09T23:44:08+00:00
2026-05-09T23:44:08+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোড়লিপনা শেষ!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম 
এআই জেনারেটেড প্রতীকী ছবি।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক দশকের মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক একাধিপত্য চ্যালেঞ্জ করে রাশিয়া এবং চীন একটি নতুন ‘নিরাপত্তা স্থাপত্য’ বা সিকিউরিটি আর্কিটেকচার গড়ে তোলার ব্যাপারে চূড়ান্ত তৎপরতা শুরু করেছে। 

গত ২৭ এপ্রিল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ৫-৬ মে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। 

এই নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে সরিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলো এবং তাদের মিত্র রাশিয়া ও চীনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বহুপাক্ষিক ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে নিয়ে আসা।

পারস্য উপসাগরের জন্য এই ‘নিরাপত্তা স্থাপত্য’ ধারণাটি কেবল একটি কূটনৈতিক শব্দ নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। চীন ইতোমধ্যেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার বর্তমান সংঘাতকে ‘অবৈধ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনটি মূল অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। 

বেইজিংয়ের এই অবস্থানের মধ্যে রয়েছে ইরানের সব যৌক্তিক দাবির প্রতি সমর্থন, পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন বিশ্বব্যবস্থা গঠনে সক্রিয় অংশগ্রহণ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত এমন একটি ব্যবস্থা যা উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ছত্রছায়া সরিয়ে রাশিয়া ও চীনকে প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

এই নতুন নিরাপত্তা কৌশলের বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দিক রয়েছে যার মধ্যে প্রধানতম হলো মার্কিন বাহিনীকে এই অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া। ইরান, রাশিয়া ও চীন—তিন পক্ষই বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরসহ কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। 

দ্বিতীয়ত, ইরানের বর্তমান অবস্থানকে একটি বৈধ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া। ইরান মনে করছে, যুদ্ধের পর তাদের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তাদের এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রধান ভূমিকা পালন করতে সহায়তা করবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইউরেশীয় একীকরণের মাধ্যমে একটি বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলাও এই পরিকল্পনার অংশ।

এদিকে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সৌদি আরব এবং কাতার তাদের দীর্ঘদিনের মার্কিন নিরাপত্তা সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে হাঁটছে। তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে রাশিয়া ও চীনের দেওয়া নিরাপত্তা ছাতার নিচে আশ্রয় নিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। 

যদি এই তথ্য সত্যি হয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মোড়লিপনার চূড়ান্ত অবসান ঘটাবে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন আর তাদের নিরাপত্তার জন্য বহিরাগত কোনো শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাইছে না, বরং তারা এমন এক ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে যেখানে ইরান, রাশিয়া এবং চীন সমান অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

সূত্র: সোনার ২১


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: