সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চণ্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তিন দশক পার হলেও পায়নি পর্যাপ্ত অবকাঠামো। এতে ভোগান্তি নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও বারান্দার মেঝেতে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের চণ্ডিপুর পারএলংজানী গ্রামে ১৯৮৯ সালে নির্মাণ করা হয় বিদ্যালয়টি। এরপর ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। সাড়ে তিন দশক পার হলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত অবকাঠামো না পাওয়ায় ভবনটির তিনটি কক্ষে চলছে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির কার্যক্রম। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২৩ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৬ জন। শ্রেণিকক্ষ সংকটও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ও বারান্দার মেঝেতে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে একদিকে ব্যাহত হচ্ছে দাফতরিক কাজ, অন্যদিকে বারান্দায় বসে ক্লাস করা ছোট ছোট শিশুদের জন্য দাঁড়িয়েছে চরম ভোগান্তি।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে চিঠি পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তালিকা চেয়েছে। তালিকায় প্রথমে চণ্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নাম উল্লেখ থাকবে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হামিদা খাতুন বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টিতে মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষ। কক্ষের অভাবে দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের অফিস কক্ষে পাঠদান করাতে হচ্ছে। ফলে পাঠদানে ছাত্র-ছাত্রীরা অমনোযোগী থাকে। ক্লাসে শিক্ষকরাও বসে থাকে আবার শিক্ষার্থীরাও বসে থাকে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভোগান্তি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা খাতুন বলেন, শ্রেণি কক্ষের সংকটের জন্য শিশুদের বারান্দায় ক্লাস করাতে হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীরা বারান্দার মেঝেতে বসে ক্লাস করছে। এতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। তাই সরকার যদি বিদ্যালয়ে একটি ভবনের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে চলন বিন অধ্যুষিত এই অঞ্চলের শিশুরা ভালোভাবে ক্লাসে পড়ালেখা করতে পারতো। এবং পড়াশোনার মান আরো উন্নত হতো।
প্রধান শিক্ষক মো. আবু বককার মিয়া বলেন, ১৯৮৯ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৬ সালে বিদ্যালয়ে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১২৩ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে একজন চিকিৎসার জন্য ভারতে রয়েছে। একজন ডেপুটেশনে পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয়ে আছেন। চারজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। বিদ্যালয়টি শ্রেণি কক্ষের সংকট থাকায় ক্লাস নিতে হয় অফিস কক্ষে। এছাড়া শ্রেণি কক্ষের অভাবে বারান্দায় করানো হচ্ছে শিশুদের পাঠদান। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় দুজনের বেঞ্চে বসতে হচ্ছে চারজন শিক্ষার্থীকে। শব্দের কারণে তারা পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। যে কারণে প্রতিনিয়ত পাঠ্য কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী ও আগ্রহী করে তুলতে খেলার মাঠ ও বিনোদনের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে তালিকা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চন্ডিপুর পারএলংজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম তালিকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে আবেদন করতে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কাজ শুরু করতে পারবো।
সময়ের আলো/জোই