পৃথিবীর ইতিহাসে ভাস্কর্য সৌন্দর্য, শক্তি ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে অতুলনীয়। বিখ্যাত নারীদের নিয়ে তৈরি কিংবা নারী অবয়ব ফুটিয়ে তোলা ভাস্কর্যগুলো যেন আরও আকর্ষণীয়। তাইতো গ্রিক পুরাণের দেবী আফ্রোদিতির মতো প্রাচীন ভাস্কর্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশের নভেরা আহমেদের আধুনিক ভাস্কর্যগুলো অনন্য। গুণী শিল্পীরা খুব প্রাণবন্ত আর রহস্যময় করে ফুটিয়ে তোলেন একেকটি ভাস্কর্য।
পিয়েতা
এই জগদ্বিখ্যাত ভাস্কর্যে ফুটে উঠেছে একমাত্র পুত্র যিশুকে কোলে নেওয়া কুমারী মা মেরির অবয়ব। ভাস্কর মাইকেলেঞ্জেলো এই ভাস্কর্যটি যখন তৈরি করেন, তখন তার বয়স ২০-এর কোঠায় এবং তখন তিনি জনপ্রিয়ও ছিলেন না। পরে ভাস্কর্যটি পৃথিবীজুড়ে জনপ্রিয়তা পায়। এটি পঞ্চদশ শতাব্দীর একেবারে শেষের দিকে তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে রোমে ভ্যাটিকান সিটির সেইন্ট পিটারস ব্যাসিলিকা শহরের একটি গির্জায় রক্ষিত আছে। মাইকেলেঞ্জেলো একই বিষয়ের ওপর আরিও কিছু শিল্পকর্ম তৈরি করেছিলেন। তবে এটিই প্রথম এবং এটি এমন একটি বিরল ভাস্কর্য, যার ওপর শিল্পীর নিজ স্বাক্ষর রক্ষিত আছে।
ভেনাস ডি মিলো
ধারণা করা হয়, গ্রিক পুরাণে বর্ণিত ভালোবাসার দেবী আফ্রোদিতিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই বিখ্যাত ভাস্কর্যে। ভাস্কর্যটি খ্রিষ্টপূর্ব আনুমানিক ১০০ বা ১৩০ শতকের সময়ের। এটি মার্বেল দিয়ে নির্মিত এবং আকৃতি ২০৩ সেন্টিমিটার। এর হাতের কিছুটা অংশ হারিয়ে গেছে। জোরগস কেন্ট্রটাস নামক ব্যক্তি মিলো দ্বীপের ধ্বংসস্তূপে ১৮২০ সালে ভাস্কর্যটি খুঁজে পান। পরে অষ্টাদশ লুইকে উপহার দেওয়া হলে, তিনি ১৮২১ সালে ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়ামে সেটি দান করেন।
সাভানা বার্ড গার্ল
১৯৯৪ সালে ‘মিডনাইট ইন দ্য গার্ডেন অব গুড অ্যান্ড ইভিল’ উপন্যাসের প্রচ্ছদে স্থান করে নেওয়ার পর খুবই আলোচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে একটি ভাস্কর্য। ব্রোঞ্জে গড়া প্রায় সাড়ে চার ফুট আকৃতির সেই ভাস্কর্যের কারিগর সিলভিয়া শ জুডসন। ১৯৩৬ সালে তিনি এটি নির্মাণ করেন। ১৯৩৮ সালে শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে গার্ল উইথ বোলস হিসেবে এই ভাস্কর্যের প্রদর্শনী হয়। ১৯৬৭ সালে তার একটি বইয়ে ভাস্কর্যটিকে ‘বার্ড গার্ল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের লেক ফরেস্ট এলাকায় এর অবস্থান।
লেডি জাস্টিস
পৃথিবী বিখ্যাত এবং বহুল ব্যবহৃত এই ভাস্কর্যের কারিগর হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো শিল্পীকে কৃতিত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। সর্বপ্রথম কে এমন ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন, তা জানা যায় না। ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে পৃথিবীর অনেক দেশের আদালত প্রাঙ্গণে ভিন্ন ভিন্ন রূপে, ভিন্ন উপাদানে তৈরি এই ভাস্কর্যটির দেখা মেলে, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। দেশ এবং গড়নের ভিন্নতার কারণে ‘স্কেলস অব জাস্টিস’, ‘ব্লাইন্ড জাস্টিস’ বা আরও কিছু নামকরণ থাকলেও এটি ‘লেডি জাস্টিস’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত।
/মহু