কুষ্টিয়ার মিরপুরে মাদক মামলায় আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক পাঁচ ব্যক্তি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক আসামির পক্ষে তদবির করায় তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নওদা আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটক রবিউল ইসলাম স্থানীয় বাসিন্দা এবং মো. রমজানের ছেলে। পরে তাকে থানায় নিয়ে এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ সময় তার পক্ষে থানায় যান সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হকসহ আরও চারজন। বাকি চারজন হলেন- সাইদুল ইসলাম, সুজন আলী, আলাউদ্দিন ও শফিকুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে তারা জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন
মিরপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির রেজাউল করিম বলেন, আটক চারজন দলের কোনও দায়িত্বশীল নেতা বা কর্মী নন, তবে তারা সমর্থক। তিনি দাবি করেন, তারা মূলত পরিচিত ব্যক্তির খোঁজ নিতে থানায় গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে সদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আশা জানান, ইউপি সদস্য এনামুল হক বিএনপির কোনও পদধারী নন। তিনি দলের সমর্থক হলেও তার কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, মাদক মামলার আসামিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য থানায় এসে তারা বারবার তদবির করছিলেন। একাধিকবার নিষেধ করার পরও তারা বিষয়টি উপেক্ষা করেন।
তিনি আরও জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের তদবির নিষিদ্ধ। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া হবে। বর্তমানে পাঁচজনই পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
এএডি/