বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বড় ধরনের সরকারি রদবদল করেছে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা মন্ত্রিসভা ও প্রশাসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন এনেছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা।
সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল প্রেসিডেন্টের ভাই মাহের আল-শারাকে প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। তার জায়গায় সাবেক হোমস গভর্নর আবদুল রহমান বদরেদ্দিন আল-আমাকে প্রেসিডেন্সির মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মাহের আল-শারার নিয়োগ নিয়ে আগে থেকেই স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং সমালোচকরা বলছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে প্রেসিডেন্ট তার ঘনিষ্ঠদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাচ্ছেন।
নতুন রদবদলে তথ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। খালেদ জারউরকে নতুন তথ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। আগের তথ্যমন্ত্রী হামজা মুস্তাফাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আসাদ আমলের ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা বিষয়ক কমিটির প্রধান বাসেল সুইদানকে কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছে।
প্রাদেশিক প্রশাসনেও পরিবর্তন এসেছে। হোমস, কুনেইত্রা ও দেইর আজ-জোর প্রদেশের গভর্নরদের বদলি করা হয়েছে। বিশেষ করে দেইর আজ-জোর অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে সিরিয়ার অধিকাংশ তেলক্ষেত্র অবস্থিত।
সরকারি ঘোষণায় এই রদবদলের নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই আহমেদ আল-শারার সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়ছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি মন্ত্রী ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বসিয়েছেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়ায় অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগে বিক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই চাপের কারণেই সরকারে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এদিকে, সরকার শুধু প্রশাসনিক রদবদলই করেনি; আসাদ আমলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সিরিয়ার ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের পর প্রতিশ্রুত ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস’ বা অন্তর্বর্তীকালীন বিচার প্রক্রিয়া শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
গত ২৬ এপ্রিল দামেস্কে সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আতেফ নাজিবের বিচার শুরু হয়। তিনি দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশে ২০১১ সালের বিক্ষোভ দমনে সহিংস ভূমিকা রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে সিরীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আতেফ নাজিব, যিনি বাশার আল-আসাদের চাচাতো ভাই, বিচার শুরুর সময় আদালতে একমাত্র উপস্থিত আসামি ছিলেন। অন্যদিকে বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং আরও কয়েকজন সাবেক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুপস্থিত অবস্থায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও মাদক পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
সিরিয়ায় এই প্রথম বড় প্রশাসনিক রদবদল দেশটির রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে জনঅসন্তোষ কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে আসাদ-পরবর্তী সিরিয়ায় নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত বহন করছে।
/ইউএমএইচ