বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধীনস্থ ‘ন্যানোটেকনোলজি অ্যান্ড এনার্জি ডিভাইস ল্যাব’ (এনইডিএল)-এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক এক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাভিত্তিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিকীকরণের ক্ষেত্রে এই আয়োজনকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. সোনিয়া খান সনি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালক ড. রিসালাত রফিক, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন জাপানের (নাগোয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি)'র প্রথিতযশা গবেষক অধ্যাপক তেতসুও সোগা। তার বক্তব্যে সৌরকোষ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আধুনিক সৌরকোষ প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এনার্জি ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব।
অধ্যাপক সোগা বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই জ্বালানির বিকল্প উদ্ভাবনে তরুণ গবেষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীরা গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে তিনি জাপানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্পর্কেও আলোচনা করেন। বিশেষ করে এমইএক্সটি স্কলারশিপসহ বিভিন্ন জাপানি বৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া, গবেষণা পরিকল্পনা প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে নিজেকে গড়ে তোলার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি জাপানের গবেষণাগার সংস্কৃতি, শৃঙ্খলাবোধ এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে গবেষণার বিশেষ প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য এ ধরনের গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহেই বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি অর্থবছরের গবেষণা বরাদ্দ ও মেধাভিত্তিক বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মেধাবী গবেষকদের জন্য অর্থায়ন, গবেষণা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় গবেষণা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা আন্তরিক থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের সেশন কনভেনার ড. মো. আরিফ উল ইসলাম তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের যৌথ গবেষণা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের গবেষণার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করে।
উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নেডল’ ল্যাব গত কয়েক বছর ধরে ন্যানোটেকনোলজি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং হাইড্রোজেন উৎপাদন নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অধ্যাপক তেতসুও সোগার মতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষকের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উদ্ভাবন ও মৌলিক গবেষণায় গুরুত্বারোপ ছাড়া একটি জ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ধরনের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই