হজ ইসলাম ধর্মের অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা অনেকেই হজের ব্যাপারে গড়িমসি করি। ‘এখনো তো সময় আছে, এই ভাবনায় জীবনের বড়ো একটি অংশ পার করে দিই। পরে জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে, যখন শক্তি-সামর্থ্য কমে যায় এবং অনেক কিছুই করার সুযোগ থাকে না, তখন হজে যাওয়ার ইচ্ছা করি। অথচ এভাবে হজকে জীবনের ‘দ্বিতীয় বিকল্প’ বানিয়ে ফেলা ঠিক নয়। কারণ, হাদিসে সামর্থ্য অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই হজ আদায়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজ করার ইচ্ছা করে, সে যেন দ্রুত তা আদায় করে নেয়। কারণ, যে-কোনো সময় সে অসুস্থ হয়ে যেতে পারে, বাহনের ব্যবস্থা না-ও থাকতে পারে অথবা অন্য কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৭৩২)।
আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তির হজে যাওয়ার পথ খরচ বহনের সামর্থ্য আছে, অথচ সে হজ আদায় করে না, সে ইহুদি কিংবা খ্রিষ্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করুক, তাতে কিছু যায় আসে না।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৮১২)।
একবার চিন্তা করুন, আপনি যুবক বয়সেই হজের সামর্থ্য অর্জন করেছেন, কিন্তু বার্ধক্যে গিয়ে হজ আদায়ের পরিকল্পনা করছেন। অথচ, জীবনের শেষ সময়ে পৌঁছানোর আগেই যদি রবের ডাকে সাড়া দিতে হয়, তখন কি সেই ডাক উপেক্ষা করার সুযোগ থাকবে? অবশ্যই না।
তাই হজ পালনে অযথা বিলম্বের কোনো সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে সামান্য উদাসীনতাও মানুষের জন্য সীমাহীন ক্ষতির কারণ হতে পারে।
হজ ও ওমরাহ মানুষের আত্মশুদ্ধি ও ভাগ্যোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাদিস শরিফেও এ বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে উপযুক্ত সময়ে হজ আদায়ের তাওফিক দান করুন। আমিন।
/এসএকে