মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত মৃত্যুশয্যায়। তেহরানের পক্ষ থেকে পাঠানো সর্বশেষ প্রস্তাবকে ‘এক গাদা আবর্জনা’ হিসেবে অভিহিত করে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১১ মে) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের সাথে কোনো আপস নয়, বরং চূড়ান্ত বিজয়ই তার লক্ষ্য।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তিনি পুনরায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালুর কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের পরিধি এবার আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
ইরানের পাঠানো প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ওরা ভাবছে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ব কিংবা চাপে পড়ে নতি স্বীকার করব। কিন্তু আমার ওপর কোনো চাপ নেই। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব এবং আমাদের জয় সুনিশ্চিত। ইরানের জনগণের বিদ্রোহ করার আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, কুর্দিরা অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করবে বলে আমরা আশা করেছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের হতাশ করেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। পেন্টাগন ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দিলেই ইরানে পুনরায় হামলা শুরু করতে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সাথে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে যুদ্ধের সব ধরনের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে।
পরমাণু ইস্যুতে এক রহস্যময় মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, ইরান তাদের স্থাপনার গভীরে পুঁতে রাখা ‘ইউরেনিয়াম ধূলিকণা’ বা নিউক্লিয়ার ডাস্ট সরিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছে। কারণ ওই গভীরতা থেকে তা বের করার সক্ষমতা তেহরানের নেই।
এদিকে, চলতি সপ্তাহেই চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের ধারণা, বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে একটি পরমাণু চুক্তিতে বাধ্য করতে চাইবেন তিনি। প্রশাসনের একটি অংশ মনে করছে, চীন সফর শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়তো বড় কোনো সামরিক অভিযানে যাবেন না ট্রাম্প।
ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার বলেছেন, তেহরানের প্রস্তাব অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও বাস্তবসম্মত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রই বরং অযৌক্তিক দাবি দাওয়া তুলে পরিস্থিতি জটিল করছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান কেবল তার ন্যায্য অধিকারটুকু আদায়ের লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।
/কহু