৭ অক্টোবর হামলা : হামাস সদস্যদের প্রকাশ্যে বিচার করবে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইতিহাসে নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ বিল পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট ‘নেসেট’।

2026-05-12T10:19:45+00:00
2026-05-12T10:19:45+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
৭ অক্টোবর হামলা : হামাস সদস্যদের প্রকাশ্যে বিচার করবে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ১০:১৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ইতিহাসে নজিরবিহীন রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ বিল পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট ‘নেসেট’। সোমবার নেসেটের অধিবেশনে ৯৩-০ ভোটের ব্যবধানে বিলটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়। এই আইনের অধীনে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে এবং পুরো বিচার প্রক্রিয়া জেরুজালেমের একটি বিশেষ সামরিক আদালতে জনসমক্ষে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি রাজনীতিতে সরকারি ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে নানা ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও, এই বিলটি পাসের ক্ষেত্রে বিরল সংহতি দেখা গেছে। কোয়ালিশন ও বিরোধী দল- উভয়পক্ষের সদস্যরাই যৌথভাবে এই আইনি পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানান। যদিও দেশটিতে এর আগে সন্ত্রাসীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত পৃথক আইন পাস হয়েছিল, তবে আইনি জটিলতার কারণে সেটি ৭ অক্টোবরের ঘটনায় কার্যকর করার সুযোগ ছিল না। ফলে হামলাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে এই নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এই বিচার প্রক্রিয়াকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯৫২ সালে কুখ্যাত নাৎসি যুদ্ধাপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যানের বিচারের পর দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের বিশাল মাপের গণবিচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে আইখম্যানের ফাঁসি কার্যকর করার পর ইসরায়েলে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। নতুন এই আইনে বিচারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বিশ্বজুড়ে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিশেষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির কথা বলা হয়েছে।

পাস হওয়া আইনের একটি বিশেষ ধারায় বলা হয়েছে, এই অপরাধে দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে কোনো জিম্মি বিনিময় বা বন্দি মুক্তি চুক্তির আওতায় মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাবেন না। এছাড়া বিচারক প্যানেল নিয়োগ, জনসমক্ষে শুনানি এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আদালতের নিরাপত্তার জন্য একটি স্বতন্ত্র রক্ষী বাহিনী গঠনের পাশাপাশি বিচারের যাবতীয় নথিপত্র স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রীয় আর্কাইভে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের বিচার বিভাগীয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই আইনের মাধ্যমে হামলাকারী এবং তাদের সহযোগীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় সহস্রাধিক নিহতের ঘটনা এবং জিম্মি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ আইনটি পাস করা হলো। প্রায় দেড় মাস বিরতির পর নেসেটের গ্রীষ্মকালীন অধিবেশন শুরু হতেই এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একটি কঠোর বার্তা দিতে চাইছে ইসরায়েল। এর মাধ্যমে দেশটি প্রমাণ করতে চায় যে, ভূখণ্ডের ওপর যে কোনো আঘাতের বিচার করতে তারা বদ্ধপরিকর।


/কহু


  বিষয়:   ইসরায়েল  হামাস  ফিলিস্তিন  গাজা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: