মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এই সফরে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের একঝাঁক কর্ণধার। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই প্রতিনিধিদলে এলন মাস্ক, অ্যাপল-এর টিম কুক, জিই অ্যারোস্পেস-এর ল্যারি কাল্প এবং বোয়িং-এর কেলি ওর্টবার্গের মতো বৈশ্বিক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করতে বেশ কিছু ফোরাম গঠনে একমত হতে পারে। বিশেষ করে বোয়িংয়ের বিমান ক্রয়, মার্কিন কৃষি পণ্য এবং জ্বালানি খাতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, বোয়িং এবং চীনের মধ্যে প্রায় ৫০০টি ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ জেট বিমান এবং কয়েক ডজন ওয়াইডবডি বিমান ক্রয়ের দীর্ঘমেয়াদী আলোচনা চলছে। যদি এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়, তবে এটি হবে ইতিহাসের একক বৃহত্তম বিমান ক্রয় চুক্তি, যা ২০১৭ সালের পর চীনের পক্ষ থেকে বোয়িংকে দেওয়া প্রথম বড় কোনো অর্ডার।
এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে আরও থাকছেন মেটা-র দিনা পাওয়েল ম্যাককর্মিক, ব্ল্যাকরক-এর ল্যারি ফিঙ্ক, ব্ল্যাকস্টোন-এর স্টিফেন শোয়ার্জম্যান এবং মাইক্রন-এর সঞ্জয় মেহরোত্রা। এছাড়া মাস্টারকার্ড, ভিসা ও কোয়ালকম-এর প্রধান নির্বাহীরাও এই সফরে অংশ নিচ্ছেন। তবে সিসকো-র প্রধান নির্বাহী চাক রবিন্স আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানির বার্ষিক আয় ঘোষণার ব্যস্ততার কারণে এই সফরে যোগ দিতে পারছেন না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এনভিডিয়া-র প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এই সফরে আমন্ত্রণ পাননি। জানা গেছে, হোয়াইট হাউস বর্তমানে কৃষি ও বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে চলা ‘ট্রেড ওয়ার’ বা বাণিজ্য যুদ্ধের বিরতি বাড়ানো এবং চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিরল খনিজ সরবরাহ বজায় রাখার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সর্বশেষ সাক্ষাতের পর এটিই তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক। সেই সময় তারা এক বছর মেয়াদী বাণিজ্য যুদ্ধ বিরতিতে একমত হয়েছিলেন।
/কহু