দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কয়েকদিন আগেই এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, সোমবার (১১ মে) রাতে বৈরুত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে কাফার দৌনিন পৌরসভার একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই এলাকাজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়ে এবং আহতদের উদ্ধার করে উপকূলীয় শহর টায়ারের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি হামলা ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষ থামেনি। বরং প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলি ও বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে।
ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে তারা লেবাননের ১,১০০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময়ে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলা ও বোমাবর্ষণে মৃতের সংখ্যা ২,৮০০ ছাড়িয়ে গেছে।
মঙ্গলবারও ইসরায়েল তাদের সামরিক অভিযান কমানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বরং নতুন করে কয়েকটি এলাকায় জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে বেকা উপত্যকার সোহমোর এবং দক্ষিণ লেবাননের আরজুন, তায়ার দেব্বা, বাজুরিয়াহ ও আল-হাউশ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানান।
এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী লিতানি নদীর তীরে অবস্থিত দেইর মিমাস শহরের একটি পানি পাম্পিং স্টেশন ধ্বংস করেছে এবং বিন্ট জবেইল এলাকায় বহু বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহর থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ওবাইদা হিট্টো জানান, গত এক সপ্তাহে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে আগের দফার বাস্তুচ্যুতির পর যারা নিজেদের শহরে ফিরে এসেছেন, তাদের অনেকে আবার এলাকা ছাড়তে রাজি নন।
তিনি বলেন, মানুষ খুব উদ্বিগ্ন। তারা আশঙ্কা করছে হামলা আরও বাড়তে পারে। কিন্তু তারপরও অনেকেই দক্ষিণ লেবানন ছেড়ে যেতে চান না।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের কর্মকর্তাদের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের আগে লেবাননের নেতারা হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, তিনি বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসার সঙ্গে বৈঠকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং চলমান হামলা বন্ধে ইসরায়েলের ওপর চাপ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আল-জাজিরার বৈরুত প্রতিনিধি ররি চাল্যান্ডস বলেন, ওয়াশিংটনের এই বৈঠক মূলত যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এখনই লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।
চাল্যান্ডসের ভাষায়, দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি না সরানো পর্যন্ত এ ধরনের বৈঠকের ঘোর বিরোধিতা করছে লেবানন।
/ইউএমএইচ