লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত প্রবাসীদের পরিবারে শোকের মাতম

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রবাস

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম (৪৩) ও মো. নাহিদুল

2026-05-12T20:08:39+00:00
2026-05-12T20:45:50+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
প্রবাস
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত প্রবাসীদের পরিবারে শোকের মাতম
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৮:০৮ পিএম  আপডেট: ১২.০৫.২০২৬ ৮:৪৫ পিএম
লেবাননে নিহত শফিকুল ইসলাম ও মো. নাহিদুল ইসলামের স্বজনদের আহাজারি। ছবি : সময়ের আলো
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা থেকে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম (৪৩) ও মো. নাহিদুল ইসলাম (২২)। কিন্তু মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ঘাতক ইসরায়েলি ড্রোন কেড়ে নিল তাদের প্রাণ।

মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে নিহতেদের বাড়িতে শোক সংবাদ পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনির বাতাস।

এর আগে সোমবার (১১ মে) দুপুরে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে একটি ফলের বাগানে কাজ করার সময় ড্রোন হামলায় নিহত হন তারা।

সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর একমাত্র ছেলে শফিকুল ইসলাম। বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে গত আড়াই মাস আগে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে লেবাননে যান তিনি।

নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, গত শুক্রবার রাতে শফিকুলের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। শফিকুল বলেছিলেন, মেয়েদের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রেখো, ঋণ শোধ হয়ে গেলে আর কষ্ট থাকবে না।


শফিকুলের বড় মেয়ে তামান্না আক্তার মৌ একাদশ শ্রেণির এবং ছোট মেয়ে বৃষ্টি আক্তার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন তারা দিশাহারা। রুমা খাতুনের আর্তনাদ, এত ঋণের বোঝা এখন আমি কীভাবে বইব?

আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের বড় ছেলে নাহিদুল ইসলাম। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে আড়াই মাস আগে লেবাননে গিয়েছিলেন তিনি। নাহিদের বাবা বলেন, ছেলের আবদার মেটাতে ঋণ করে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু ও যে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে তা কল্পনাও করিনি।

ঘটনার পর সকালে নিহতদের বাড়িতে ছুটে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী বলেন, শফিকুল অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন। তার দুটি মেয়ে সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মার ভবিষ্যতের জন্য সরকারি বড় ধরনের সহায়তা প্রয়োজন।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু ও সদর ইউএনও অর্ণব দত্ত নিহতেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। তারা জানান, মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল বলেন, আমাদের দুই রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই দুই পরিবারকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

শোকাতুর দুই পরিবারেরই এখন একটাই দাবি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেন প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পেতে সরকার যেন পাশে দাঁড়ায়।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   লেবানন  ইসরায়েলি হামলায়  প্রবাসী  মৃত্যু  পরিবার  শোক 


Loading...
Loading...
প্রবাস- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: