ঈদকে সামনে রেখে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এজেন্টদের লক্ষ্য করে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র। সম্প্রতি যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য পেয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তাররা ঈদকে সামনে রেখে বিকাশ ও নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস এজেন্টের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। পাশাপাশি ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি জেলায় স্বর্ণের দোকানেও ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. লিটন জব্বার (৫২), ইসমাইল হোসেন মামুন (৫৫), মো. বাবুল বাবু (৪৫), আইয়ুব ভূঁইয়া (৩০) ও মো. রোমান (৩৫)।
ডিবি জানায়, যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকানের সামনে জড়ো হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। এ সময় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ৭ রাউন্ড গুলি, প্রায় ২ কেজি ২০০ গ্রাম বিস্ফোরক, একটি চাপাতি ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে ঈদ মৌসুমে এমএফএস এজেন্টদের নগদ লেনদেন বাড়ে, এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। দিনে এজেন্টদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর রাতে স্বর্ণের দোকানেও হামলার পরিকল্পনা ছিল। তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
ডিবি প্রধান জানান, অভিযানের অংশ হিসেবে ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীও রয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
আরবিএন