প্রায় এক দশক পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন পুনরায় বেইজিংয়ের মাটিতে পা রাখছেন, তখন তার সামনে এক পরিবর্তিত ও শক্তিশালী চীন। ২০১৭ সালে নিষিদ্ধ নগরীতে রাজকীয় অভ্যর্থনা পাওয়া ট্রাম্প এবার আতিথেয়তা পাচ্ছেন ‘ঝংনানহাইতে’, যা চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের অতি সুরক্ষিত ও অভিজাত কর্মস্থল। তবে আপ্যায়নের আড়ালে আলোচনা যে কতটা কণ্টকাকীর্ণ হবে, তা নিয়ে সংশয় নেই কারো মনে। একদিকে ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক তেল সংকট, অন্যদিকে বাণিজ্য যুদ্ধ, প্রযুক্তি ও তাইওয়ান ইস্যু। সব মিলিয়ে এক অস্থির সময়ে মুখোমুখি হচ্ছেন বিশ্বের দুই শীর্ষ নেতা।
ট্রাম্প যখন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে ব্যস্ত, শি জিনপিং তখন চীনের ‘নতুন উৎপাদনশীল শক্তি’ গড়ে তুলতে মনোযোগী। রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে চীন আজ প্রযুক্তির শীর্ষে। পশ্চিমা বিশ্লেষক আলি ওয়াইনের মতে, এক সময় চীন নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ প্রমাণ করতে মরিয়া ছিল, কিন্তু এখন আর তার প্রয়োজন নেই। ওয়াশিংটন নিজেই এখন চীনকে তাদের ইতিহাসের সবথেকে বড় ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যদি চীনের অগ্রগতির আসল রূপ দেখতে হয়, তবে তাকে বেইজিংয়ের জাঁকজমক ছাড়িয়ে তাকাতে হবে দক্ষিণ-পশ্চিমের শহর চংকিংয়ের দিকে। পাহাড় কেটে তৈরি এই ‘৮-ডি’ শহরটি বর্তমানে চীনের আধুনিকায়ন ও সফট পাওয়ারের এক অনন্য প্রতীক। যেখানে যান্ত্রিক রোবট কুংফু খেলছে, আর ট্রেনের জানালা দিয়ে শহর দেখার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। অথচ এই উন্নয়নের পেছনে রয়েছে বিশাল ঋণের বোঝা এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্পও।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের বৈঠকের অন্যতম প্রধান ইস্যু ইরান যুদ্ধ। ট্রাম্প চাইছেন বেইজিংয়ের প্রভাব খাটিয়ে তেহরানকে শান্তি আলোচনায় আনতে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি যুদ্ধে এগিয়ে থাকতে চীন এখনো আমেরিকার এনভিডিয়া চিপের ওপর নির্ভরশীল। এই চিপ বাণিজ্যে ট্রাম্পের নমনীয়তা চীনকে নতুন অক্সিজেন দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনেই বিতর্ক রয়েছে।
মার্কিন শুল্কনীতির জবাবে চীন এখন আর এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়। তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের সাথে বাণিজ্য বাড়িয়েছে। চংকিংয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের জোয়ারই তার প্রমাণ। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মানুষ এখন ব্যাপকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে, যা পরোক্ষভাবে চীনের বাজারকেই সমৃদ্ধ করছে।
/কহু