বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা তিন টেস্টে হেরে সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছে পাকিস্তান দল। এবার পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের একহাত নিলেন পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা। নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিওতে পাকিস্তান দলের নানা বিষয় নিয়ে সমালোচনা করেন।
মিরপুর টেস্টের শেষদিনে পাকিস্তানকে ২৬৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে কমপক্ষে ৭৫ ওভারের মতো সময় পেয়েছিল পাকিস্তান। তবে বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করায় মাসুদ-রিজওয়ানদের অসহায় আত্মসমর্পণ কাছ থেকে দেখেছেন রমিজ রাজা।
বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১১ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। সফরকারীদের ১০৪ রানে হারের পর তাদের খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রমিজ। ইউটিউব চ্যানেলে পাকিস্তানি এই ক্রিকেট বিশ্লেষক বলেন, ক্রিকেটে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু হারের ধরনটাও তো দেখতে হবে। যারা র্যাংকিংয়ে ১, ২, ৩ নম্বরে আছে, তারা ঠিকই ম্যাচটা জিতত।
বিদেশের মাঠে পাকিস্তান সবশেষ টেস্ট জিতেছে ২০২৩ সালে। কলম্বোতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংস ও ২২২ রানে জয়ের পর বিদেশে পাকিস্তান টানা ছয় টেস্ট হেরেছে। এই ছয় টেস্টের মধ্যে তিনটিতে পাকিস্তান হেরেছে রান তাড়া করতে গিয়ে। অন্য তিন ম্যাচ তারা হেরেছে রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে।
পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মানসিক সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে রমিজ রাজা বলেন, পাকিস্তানের এই মানসিক সমস্যা শুরু হয়েছে অনেক দিন আগে থেকেই। গত পৌনে তিন বছরে পাঁচ বারের মধ্যে চার বার রান তাড়া করতে গিয়ে আমরা হেরেছি। রান তাড়ার ক্ষেত্রে নিষ্ঠা আর আত্মবিশ্বাস দেখা যায় না বললেই চলে। পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের অবস্থা যাচ্ছে তাই। যত জনকে খেলানো হয়েছে, সবাই চাপে ভেঙে পড়ে।
তিনি বলেন, টেস্টে শান মাসুদ অধিনায়কত্ব করছেন ২০২৩ সাল থেকে। কিন্তু দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। পাকিস্তানকে ১৫ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মধ্যে ১১টিতেই হেরেছে দল। মাসুদের নেতৃত্বের সমালোচনা করে রমিজ বলেন, মাসুদের নেতৃত্বের প্রায় তিন বছর হতে চলল। যদি আপনি ১৫ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে ১১ ম্যাচে হারেন এবং চার ম্যাচ জেতেন, তাহলে বুঝতে হবে অনেক কিছু ঠিকঠাক চলছে না।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরুর আগে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে ছিল পাকিস্তান, বাংলাদেশ ছিল পিছিয়ে। মিরপুর টেস্টে জয়ের পর দুই ধাপ এগিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ছয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। শান্তর দলের সফলতার হার ৪৪.৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তান দুই ধাপ পিছিয়ে সাত নম্বরে নেমে গেছে। তাদের সফলতার হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। ১৬ মে সিলেটে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।
সময়ের আলো/আআ