অস্তিত্ব সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিধ্বস্ত হওয়া লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ‘এআই-১৭১’-এর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন

2026-05-13T13:14:21+00:00
2026-05-13T13:14:21+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
অস্তিত্ব সংকটে এয়ার ইন্ডিয়া, ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আভাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:১৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিধ্বস্ত হওয়া লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ‘এআই-১৭১’-এর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আগামী মাসেই প্রকাশ করতে যাচ্ছে ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি)। ২৬০ জন আরোহীর প্রাণহানি ঘটানো সেই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির ক্ষত এখনো শুকায়নি, এর মধ্যেই টাটা গ্রুপের মালিকানাধীন এই এয়ারলাইন্সটি এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। নেতৃত্ব শূন্যতা, বিশাল আর্থিক লোকসান এবং একের পর এক নিরাপত্তা বিচ্যুতি সংস্থাটির ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত মার্চ মাসে শেষ হওয়া অর্থবছরে এয়ার ইন্ডিয়ার লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই চরম বিপর্যয়ের মুখে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যাম্পবেল উইলসন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেছেন। ২০২২ সালে সরকারের কাছ থেকে লোকসানি এই সংস্থাটি কিনে নেওয়ার পর থেকে এটি এখন টাটা গ্রুপের সবচেয়ে বড় ‘মাথাব্যথার’ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুম্বাইয়ের সদর দপ্তরে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি নতুন করে বিনিয়োগ বা ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

বিগত এক বছরে এয়ার ইন্ডিয়ার সুনাম ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে বেশ কিছু বিতর্কিত ঘটনা। গত মার্চে দিল্লি থেকে ভ্যাঙ্কুভারগামী একটি ফ্লাইট প্রায় আট ঘণ্টা ওড়ার পর পুনরায় দিল্লিতে ফিরে আসতে বাধ্য হয়, কারণ কানাডার আকাশসীমায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় অনুমতিই ছিল না তাদের কাছে। বিমান বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে নজিরবিহীন এবং ‘পদ্ধতিগত বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন। এছাড়া ভারতের এভিয়েশন রেগুলেটরের অডিটে এয়ার ইন্ডিয়ার ৫১টি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে, যার মধ্যে সাতটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ জিতেন্দ্র ভার্গব বিবিসি-কে জানিয়েছেন, টাটা গ্রুপ এই পুরোনো এয়ারলাইন্সটির সমস্যাগুলো অনুধাবন করতে ভুল করেছিল। নতুন বিমানের ডেলিভারি পেতে দেরি হওয়া, ভারতীয় রুপির দরপতন এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি- সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছে এয়ার ইন্ডিয়া। এর ফলে দিল্লি-ওয়াশিংটন এবং মুম্বাই-সান ফ্রান্সিসকোর মতো লাভজনক রুটগুলোও বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমেদাবাদ দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদনে যদি এয়ার ইন্ডিয়ার অবহেলা বা কারিগরি ত্রুটির প্রমাণ মেলে, তবে সংস্থাটির ভাবমূর্তি এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। যদিও আর্থিক লোকসান সামাল দিতে টাটা গ্রুপ ও সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগের কথা ভাবছে, তবে নেতৃত্ব ও আস্থার সংকট কাটাতে তাদের ‘পরীক্ষা’ দিতে হবে।


/কহু



  বিষয়:   এয়ার ইন্ডিয়া  ভারত 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: