জেরুজালেমের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আল-ঈজারিয়াতে ইসরায়েলি বুলডোজারের আঘাতে অন্তত ৫০টি ফিলিস্তিনি দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম তীরে একটি নতুন বসতির সঙ্গে সংযুক্ত সড়ক নির্মাণের জন্য জায়গা পরিষ্কার করার লক্ষ্যে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
কী ঘটেছে
অধিকৃত পশ্চিম তীরে চালানো এই উচ্ছেদ অভিযানে দোকানগুলো সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানগুলো দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র ছিল এবং বহু পরিবার এই ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
অ্যান্টি-সেটেলমেন্ট সংগঠন পিচ নাও বলছে, গুঁড়িয়ে দেওয়া দোকানগুলোর জায়গায় একটি নতুন রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। এই রাস্তা তৈরি হলে ফিলিস্তিনিদের যান চলাচল অন্য পথে সরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে এই এলাকার বিস্তৃত অংশ কার্যত ফিলিস্তিনিদের জন্য সীমিত ব্যবহার বা ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আইনি প্রক্রিয়া ও বিরোধিতা
ধ্বংসের কয়েক দিন আগে কিছু দোকান মালিককে বৈধ অনুমতি ছাড়া নির্মাণের অভিযোগে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর আইনজীবীরা ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন, তবে আদালতের সিদ্ধান্তের আগেই উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এটি কেবল অবৈধ নির্মাণ অপসারণ নয়— বরং বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ, যেখানে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক সড়ক ও অবকাঠামো ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
দোকান মালিক মোহাম্মদ আবু গালিয়েহ এই ঘটনার পর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বহু দশকের পরিশ্রমে গড়া ব্যবসা এক রাতের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, ৪৮ বছর ধরে দিন-রাত পরিশ্রম করে যা তৈরি করেছি, এক দিন ও এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল।
এই উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণ ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সাধারণত অনুমতিবিহীন নির্মাণ অপসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে থাকে।
এই ঘটনাটি পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে, যেখানে জমি, চলাচল এবং বসতি বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত চলছে।