শান্তর ব্যাটে চঞ্চল-ধারা

মামুন হোসেন

খেলা

নাজমুল হোসেন শান্ত- বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন পোস্টারবয়। অনেকে তাকে রেকর্ডবয় বলেও ডাকেন। ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন, রানের ফল্গুধারা ছোটাচ্ছেন।

2026-05-14T05:33:15+00:00
2026-05-14T05:33:15+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
খেলা
শান্তর ব্যাটে চঞ্চল-ধারা
মামুন হোসেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৫:৩৩ এএম 
ছবি: সংগৃহীত
নাজমুল হোসেন শান্ত- বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন পোস্টারবয়। অনেকে তাকে রেকর্ডবয় বলেও ডাকেন। ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন, রানের ফল্গুধারা ছোটাচ্ছেন। ব্যাটিংয়ে নেমেই পুরাতন সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন। নতুন রেকর্ডে নাম তুলে ইতিহাস গড়ছেন। শুধু কি ব্যাটিংয়ে; অধিনায়ক হিসেবে, কখনো আবার বড় পার্টনারশিপে গড়েও রেকর্ডবুকের অংশ হচ্ছেন নিয়মিত। চারিদিকে এখন শান্ত-বন্দনা। কান পাতলেই বাতাসে ভাসছে শান্তস্তুতি।

অথচ বছর তিনেক আগের চিত্র মোটেও এমন ছিল না। সমালোচনা শব্দের সমার্থক হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার সমর্থকদের কাছ থেকে তীর্যক মন্তব্য, কটাক্ষ, কটুবাক্য শোনায় এগিয়ে?- এমন কোনো জরিপ হলে সেই তালিকায় নিশ্চয়ই শীর্ষস্থানে থাকবেন নাজমুল শান্ত! হয়তো সেরা তিনেও ঢুকে যেতে পারেন। 

সমালোচকরা এতটাই রুষ্ট ছিলেন যে শান্তর প্রতি যে তাকে ত্যক্ত- বিরক্ত হয়ে ‘লর্ড’ উপাধি পর্যন্ত দিয়েছিলেন।
শত সমালোচনায় দমে যাননি, অশান্ত হয়ে ওঠেননি শান্ত। বাংলা সিনেমার সেই বিখ্যাত চরিত্রের মতো ‘শান্ত কেন মাস্তান’-এর মতো মাস্তানিতে নেমে পড়েননি। সমর্থকদের এক হাত নেননি। বরং চুপচাপ সমস্ত সমালোচনা মুখ বুঝে সয়ে গেছেন। 

মনে মনে হয়তো প্রতীজ্ঞাবদ্ধ ছিলেন- একদিন ব্যাট হাতেই সব সমালোচনার জবাব দেবেন। দিয়েছেন, দিচ্ছেন নিয়মিত। সমালোচনার জবাব এমনভাবে দিচ্ছেন বাংলাদেশের ডিকশনারি থেকে লর্ডই মুছে ফেলেছেন। শান্ত এখন আর লর্ড নন, ব্যাটিং-কিং।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে পঞ্চপাণ্ডব বলে একটা প্রখ্যাত শব্দ রয়েছে। মাশরাফি, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব এবং তামিমকে একত্রে পঞ্চপাণ্ডব নামে ডাকা হয়। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এই পাণ্ডবের অবদান অনস্বীকার্য। তারা যা করেছেন, ক্রিকেটকে দিয়েছেন- ৫৫ বছরের ইতিহাসে আর কোনো ক্রিকেটার তা করতে পারেননি। 

তবে পঞ্চপাণ্ডব অনেক ইতিহাস গড়লেও তাদের নেতৃত্বে দেশের মাটিতে কখনো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জেতার ঘটনা ঘটেনি, পাকিস্তানের মাটি থেকে টেস্ট সিরিজ জেতার স্বাদ পায়নি টাইগাররা।

সাকিব-তামিম-মাশরাফিরা যা পারেননি শান্ত তা করে দেখিয়েছেন। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে ২-০-তে টেস্ট সিরিজ জেতার অন্যতম নায়ক ছিলেন। ঘরের মাঠে সবশেষ মিরপুর টেস্টেও ম্যাচ জয়ের নায়ক নাজমুল শান্তই। নাহিদ রানা, মেহেদী হাসান মিরাজরা বল হাতে ফাইভার কিংবা তাসকিন, তাইজুলরা ভালো বোলিং উপহার দিয়েছেন, ব্যাটিংয়ে মুমিনুল, মুশফিকরা নিজেদের অভিজ্ঞতায় অবদান রেখেছেন।

তবে শান্ত সবার থেকে এগিয়ে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করে বড় সংগ্রহে অবদান রেখেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি গড়তে ৮৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেছেন। দুই ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও নিজের করে নিয়েছেন শান্ত।

৪০ টেস্টের ছোট্ট ক্যারিয়ার শান্তর। এর মধ্যে ৯টি সেঞ্চুরির ইনিংসের মালিক তিনি। সঙ্গে ৬টি হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসের গল্পগাঁথাও রচনা করেছেন। টেস্টে সেঞ্চুরির দিক থেকে তার অবস্থান চতুর্থ। ১৩টি সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে যৌথভাবে শীর্ষে মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিম। 

এরপরই রয়েছেন বিসিবির বর্তমান বোর্ড প্রধান তামিম ইকবাল খান (১০ সেঞ্চুরি)। নাজমুল শান্ত ব্যাটে যেভাবে রানবন্যা বইছে, তাতে তামিমের আসন যেকোনো সময় শঙ্কায় পড়ে যেতে পারে। কারণ সামনেই রয়েছে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্ট। ওখানে ম্যাজিক্যাল তিন অঙ্কের দেখা পেলে তামিমকে ছুঁয়ে ফেলবেন। দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি পেলেও তো তামিমকে ছাড়িয়ে তিনে চলে আসবেন।

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অধিনায়ক হিসেবেও নিজেকে অনন্য-অসাধারণ উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের টেস্ট দলপতি। মুশফিকুর রহিমের অধীনে বাংলাদেশ ৭টি টেস্ট ম্যাচ জেতার রেকর্ড গড়েছিল। ৩৪ ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে ওই রেকর্ডটি গড়েছিলেন লিটল মাস্টার। গেল বুধবার পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট জিতে মুশফিককে ছুঁয়ে ফেলেছেন শান্ত। সেটা আবার মুশফিকের চেয়ে অর্ধেক ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে। 

এত কিছুর পরও পা মাটিতে রাখছেন শান্ত। তিনি জানেন প্রশংসা সাময়িক, যেকোনো সময় অবস্থানের হেরফের হতে পারে। উত্থান-পতনের অনেক গল্পই যে গেল এক দশকের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে দেখে হয়ে গেছে তার। তাই তো প্রথম টেস্ট জেতার পর যখন গণমাধ্যমকর্মীরা তার প্রাপ্তিকে ক্রিকেটারের রথী-মহারথীদের সঙ্গে তুলনা আনছিলেন, ফিফটির ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপদানে যখন তার তুলনায় স্যার ডন ব্রাডম্যান কিংবা জর্জ হেডলির সঙ্গে নাম জড়ানো হচ্ছিল, শান্ত গণমাধ্যমের তুলনার জবাবটা দিয়েছিলেন এভাবে, আপনি যে দুইটা নামের কথা বলেছেন, তা আমার সঙ্গে যায় না একদম। মানে মাফ করে দেন আমাকে।’

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   নাজমুল হোসেন শান্ত  টেস্ট সিরিজ  বাংলাদেশ  ক্রিকেট 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: