আসন্ন জাতীয় বাজেটে সরকার ঘোষিত রফতানি নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে রফতানি প্রণোদনার বিপরীতে সরকারের কর আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। তবে এমন সময়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যখন দেশের রফতানিকারকরা, বিশেষ করে মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ অবদান রাখা তৈরি পোশাক খাত রফতানি কমে যাওয়া ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির চাপের মধ্যে রয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাট রফতানি খাতসহ বিভিন্ন খাতে রফতানি প্রণোদনার জন্য সরকার ৯ হাজার ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী অর্থবছরেও রফতানি পরিস্থিতি ও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত থাকলে উৎসে করের হার দ্বিগুণ করার মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এনবিআরের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে অর্থবিলের জন্য এনবিআর যে প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে চায় সেগুলো পর্যালোচনা করা হবে।
এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকতে পারেন।
এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রস্তাবগুলোতে পরিবর্তন বা নতুন সংযোজন আসতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে করপোরেট করের হার ২২ থেকে ২৭ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তা ৪৫ শতাংশ পর্যন্তও হয়।
তিনি বলেন, তুলনামূলকভাবে রফতানি প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ করের হার বেশ কম। সে কারণেই এই খাতে করের হার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে রফতানিকারকদের মতে, প্রণোদনার ওপর কর বাড়ানো যৌক্তিক হবে না। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে এসব সহায়তার পরিমাণ আগেই কমিয়ে আনা হয়েছে।
রফতানিকারকদের দাবি, নিরীক্ষা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রণোদনার অর্থ পেতে তাদের হয়রানি, দীর্ঘসূত্রতা ও নানা প্রক্রিয়াগত জটিলতার মুখে পড়তে হয়।
তাদের মতে, কর আরও বাড়ানো হলে প্রণোদনার কার্যকর সুবিধা কমে যাবে। বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতসহ প্রায় ৪৩টি রফতানি খাত এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছে। এসব খাতে প্রণোদনার হার শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত।
সব ধরনের পোশাক রফতানিতে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হয়। আর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রফতানিতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রণোদনা মেলে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রফতানিকারকরা পান ২ শতাংশ এবং অপ্রচলিত বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে দেওয়া হয় ৩ শতাংশ প্রণোদনা। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানিকারকরা ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা পান। আর পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে প্রণোদনার হার ৩ থেকে ১০ শতাংশ।
সময়ের আলো/জেডি