আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে সামনে রেখে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আজ থেকে শুরু হয়েছে জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বিশেষ বৈঠক। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ এই সভার পর্দা উঠেছে। তবে এই বৈঠকের ঠিক একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতির হিসাব-নিকাশকে বেশ জটিল করে তুলেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লির এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, দক্ষিণ আফ্রিকার রোনাল্ড লামোলা এবং ব্রাজিলের মাউরো ভিয়েরা যোগ দিয়েছেন। নতুন সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওয়ানো বুধবারই দিল্লিতে পৌঁছেছেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ে থাকায় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই বৈঠকে আসতে পারেননি। চীনের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সু ফেইহং।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বলা হলেও, বাস্তবে আলোচনার বড় অংশ জুড়ে থাকছে ইরান যুদ্ধ। গত ৭৬ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারত ও চীনের অর্থনীতিতে। এই সংকটের সমাধান এবং জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম নিয়ন্ত্রণ করাই এখন ব্রিকস দেশগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ব্রিকস জোটের ভেতরে এখন ঐক্যের চেয়ে বিভেদই বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে, অন্যদিকে গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রতি ভারতের নমনীয় অবস্থান নিয়ে জোটের অন্য সদস্যরা খুব একটা খুশি নয়। আমেরিকার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ব্রিকসের বাকি দেশগুলোর সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করছে।