মসজিদে ঘুমন্ত অবস্থায় কারও ওপর যদি গোসল ফরজ হয়ে যায়, যেমন : স্বপ্নদোষ হলে, তখন কী করা উচিত, এ বিষয়ে সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এমন অবস্থায় মসজিদের ফ্লোরে হাঁটা যাবে না। তাই কাপড় বিছিয়ে বা মোজা পরে বের হতে হবে। কিন্তু ইসলামি শরিয়তে এ ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
সঠিক বিধান হলো, এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। শরীর নাপাক হয়ে গেলেও তা মসজিদের মেঝেকে নাপাক করে না। যতক্ষণ না সেখানে বাস্তব কোনো নাপাকি লাগে। তাই পায়ে কোনো দৃশ্যমান নাপাকি না থাকলে মসজিদের ভেতর দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে কোনো বাধা নেই।
তবে মসজিদের আদব ও পবিত্রতা রক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। যেন শরীর বা কাপড়ের মাধ্যমে কোথাও নাপাকি না লাগে। এ অবস্থায় অহেতুক দেরি না করে দ্রুত মসজিদ থেকে বের হয়ে গোসল করে পবিত্র হওয়াই উত্তম।
এ প্রসঙ্গে সালাফদের একটি ঘটনা আছে। ইবনে আবি নাজীহ রহ. বলেন, তিনি মসজিদে হারামে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় স্বপ্নদোষ হলে তিনি সাঈদ ইবনে জুবাইর রহ.-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘যাও, গোসল করে নাও।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ৪৯২৩)
অন্যদিকে হাদিসে বর্ণিত আছে, হজরত আয়িশা (রা.) হায়েজ অবস্থায় থাকলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর কাছ থেকে কিছু জিনিস নিতে বা দিতে দ্বিধা করেননি এবং বলেছেন, ‘তোমার হায়েজ তো তোমার হাতে নেই।’ (সহিহ মুসলিম : ২৯৮)
এই শিক্ষা থেকে বোঝা যায়, শরীরের অপবিত্রতা মানেই ব্যক্তি বা স্থানকে অপবিত্র করে ফেলা নয়। তাই গোসল ফরজ হয়ে গেলে মসজিদ থেকে বের হতে কোনো বিশেষ শক্ত কোনো নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই। বরং স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে গিয়ে দ্রুত পবিত্র হওয়াই যথেষ্ট।
/এসএকে