দেশের কোটি কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর জন্য আসন্ন বাজেটে আসতে পারে বড় সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল সেবার ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও সারচার্জ কমানোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের আভাস মিলেছে। এতে কলরেট ও ইন্টারনেট খরচ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ জোগানের জন্য মোবাইল সেবায় যে ১ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হয়েছিল, সেটি আগামী বাজেটে তুলে নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। ২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালু হলেও এখনো মোবাইল গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।
২০১৬ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকল্প থেকে সরে গেলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। সে সময় মোবাইল সেবার ওপর বিশেষ এই সারচার্জ চালু করা হয়। বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ টাকা কেটে নেওয়া হয় এই খাতে।
শুধু সারচার্জই নয়, মোবাইল সেবায় বর্তমানে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট মিলিয়ে বড় অঙ্কের কর দিতে হয় গ্রাহকদের। ফলে ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ব্যবহারযোগ্য ব্যালেন্স হিসেবে হাতে থাকে মাত্র ৫৮ টাকার মতো।
আরও পড়ুন
এছাড়া নতুন সিম কেনা কিংবা রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রেও বর্তমানে ৩০০ টাকা কর দিতে হয়। তবে আসন্ন বাজেটে এই সিম কর কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।
মোবাইল অপারেটররা বলছেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো টেলিযোগাযোগ খাতে করের চাপ কমবে। এতে গ্রাহক যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি সেবার বিস্তারও বাড়বে।
বাংলালিংকের করপোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান তাইমুর রহমান করের বোঝা কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। একইসঙ্গে অন্য অপারেটররাও তরঙ্গ নবায়নের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর বেসরকারি তিন মোবাইল অপারেটরকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে তরঙ্গ নবায়ন করতে হবে। এর ওপর অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ করলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারাও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভ্যাট কমানো গেলে গ্রামাঞ্চলে আরও সহজে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, সাধারণ গ্রাহকের স্বার্থে ব্রডব্যান্ড সেবায় ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়ে সরকারকে ভাবতে হবে।
সরকারও টেলিযোগাযোগ খাতে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, একই খাতে কোথাও অতিরিক্ত কর আর কোথাও কম কর নেওয়ার বিষয়টি ভারসাম্যপূর্ণ নয়।
এএডি/