‘তাইওয়ান ইস্যু ঠিকভাবে না সামলানো হলে হতে পারে সরাসরি সংঘাত’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু ঠিকভাবে সামলানো না হলে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক গুরুতর

2026-05-14T13:57:16+00:00
2026-05-14T14:01:55+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পকে সতর্ক করলেন শি জিনপিং
‘তাইওয়ান ইস্যু ঠিকভাবে না সামলানো হলে হতে পারে সরাসরি সংঘাত’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম  আপডেট: ১৪.০৫.২০২৬ ২:০১ পিএম
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং পেং লিইউয়ান। ছবি : আল-জাজিরা
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যু ঠিকভাবে সামলানো না হলে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক গুরুতর সংকটে পড়তে পারে এবং এমনকি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে দুই দিনের শীর্ষ বৈঠকের শুরুতেই এই মন্তব্য করেন শি জিনপিং। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং তা ইতিবাচক ফলাফলের দিকে এগোচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই অগ্রগতির মাঝেও তাইওয়ান ইস্যু এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়।

শি বলেন, তাইওয়ান নিয়ে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত, ভুল নীতি বা ভুলভাবে পরিস্থিতি পরিচালনা করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্ককে দ্রুত অত্যন্ত বিপজ্জনক পথে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে কেবল উত্তেজনা বাড়বে না, বরং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে যেখানে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও তা এমনভাবে সামলাতে হবে যাতে পুরো সম্পর্ক ভেঙে না পড়ে। দুই দেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং বড় ধরনের সংকট এড়ানো যায়।

এই বৈঠকটি এমন সময়ে হলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে দুই দেশের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট।

বৈঠকে শি জিনপিং আরও জানান, সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় দুই পক্ষ কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনার এই ধারা বজায় রাখা উচিত। তিনি এটিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং বৈঠককে ‘সম্ভবত সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনাকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক হিসেবে তুলে ধরেন।

এই বৈঠককে বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। যদিও বাণিজ্য ইস্যুতে অগ্রগতি হচ্ছে, তবুও তাইওয়ান প্রশ্নে মতপার্থক্য এখনো দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।

কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ট্রিভিয়াম চায়নার ভূ-রাজনীতি বিশ্লেষক জো মাজুর বলেন, চীন অতীতেও তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে, তবে শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মাজুর বলেন, শি মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করছেন যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।

ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে, যেখানে একসময় সম্রাটরা ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করতেন, সেখানে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ছবি তোলার সময় তাইওয়ান নিয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা— এমন প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো মন্তব্য করেননি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকগুলোতে ক্ষমতার ভারসাম্য বা ‘পাওয়ার ডাইনামিক্স’ আগের চেয়ে পরিবর্তিত হচ্ছে।

দুই নেতা বৈঠকে বাণিজ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। পাশাপাশি তারা মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।

পরবর্তী কর্মসূচি অনুযায়ী, ট্রাম্প ও শি শুক্রবার একসঙ্গে চা পান ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন, এরপর একটি রাষ্ট্রীয় ভোজেও যোগ দেবেন।

এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে একদল শীর্ষ মার্কিন কোম্পানির সিইওরাও যোগ দিচ্ছেন, যার মধ্যে আছেন ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং।

ট্রাম্প বলেছেন, শি জিনপিংয়ের কাছে তার প্রথম অনুরোধ হবে মার্কিন শিল্পের জন্য চীনের বাজার আরও ‘উন্মুক্ত’ করা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র–চীন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি ওয়েন বলেন, আগের ট্রাম্প–চীন বৈঠকের পর থেকে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এসেছে। তখন চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছিল এবং বড় অঙ্কের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এবার ট্রাম্প বিশ্বে চীনের বাড়তে থাকা প্রভাবকে স্বীকার করছেন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্ককে দুই পরাশক্তির সম্পর্ক হিসেবে দেখাতে ‘জি২’ ধারণার কথাও পুনরায় সামনে আনছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনায় ট্রাম্প তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে আছেন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আদালত তার শুল্ক আরোপের ক্ষমতার ওপর কিছু সীমাবদ্ধতা দিয়েছে, আর অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিও তার ওপর প্রভাব ফেলছে।

অন্যদিকে চীনের অর্থনীতি কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তুলনামূলকভাবে কম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে আছেন।

তবুও দুই দেশই গত বছর স্বাক্ষরিত বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আগ্রহী। সেই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর কিছু উচ্চ শুল্ক স্থগিত করে এবং চীন বিরল খনিজ রপ্তানিতে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করে।

বর্তমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র চাইছে চীনে বোয়িং বিমান, কৃষিপণ্য এবং জ্বালানি রফতানি বাড়াতে, আর চীন চাইছে যুক্তরাষ্ট্র চিপ ও আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করুক।

বাণিজ্যের বাইরে ট্রাম্প চীনকে ইরান ইস্যুতে সহযোগিতা করতে উৎসাহিত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, চীন ইরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে আগ্রহী নয়, কারণ তেহরান বেইজিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।

এদিকে তাইওয়ান ইস্যু নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অস্ত্র বিক্রিকে সমর্থন করে, যা চীন তীব্রভাবে বিরোধিতা করে।

তাইওয়ান সরকার বলেছে, চীনের সামরিক চাপ এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং তারা নিজেদের প্রতিরক্ষা জোরদার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র–চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র : রয়টার্স 

/ইউএমএইচ




  বিষয়:   ট্রাম্প  শি জিনপিং  যুক্তরাষ্ট্র  চীন  বৈঠক  তাইওয়ান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: