বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান দাবি করেছেন, তার নাম হত্যা মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিনিময়ে একটি পক্ষ ১ কোটি টাকা দাবি করেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই ক্রিকেটার প্রায় দুই বছর ধরে দেশে ফিরতে পারছেন না। সম্প্রতি প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং এই সুযোগে একটি বিশেষ মহল অর্থ হাতানোর চেষ্টা করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এফআইআরে বাদীপক্ষে যোগাযোগের জন্য যার নাম রয়েছে, তিনি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে সাকিবের সঙ্গে এই বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে রফাদফা করার প্রস্তাব পাঠান।
সাকিব আল হাসান তার সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন, মামলা থেকে নাম কাটিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবির এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত অবাস্তব। তার মতে, যারা টাকা চাইছে তাদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।
তিনি বলেন, ‘এক কোটি টাকা দিলে আমার নাম কেস থেকে উঠিয়ে দেবে। তবে যারা টাকাটা দাবি করছে, তাদের ধারণা নেই যে কেস যেহেতু হয়ে গেছে, এখন চাইলেই নাম ওঠানো সম্ভব নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, বাদীপক্ষ নাম প্রত্যাহার করতে রাজি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করে। পুলিশি তদন্তে তার কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ার পরই কেবল তিনি এই দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
দেশে ফেরা এবং সম্ভাব্য গ্রেফতার প্রসঙ্গে সাকিবের কণ্ঠে কোনো ভীতি শোনা যায়নি। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রেফতারের চেয়ে তার বড় সমস্যা হলো দেশত্যাগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা।
তিনি মনে করেন না যে দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে, তবে যদি জোর করে এমন কিছু করা হয় তবে তাতে তার কিছু করার নেই বলে মন্তব্য করেন।
সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া তার কাছে বড় কোনো সমস্যা নয়, বরং আইনিভাবে বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হওয়াই তার কাছে মুখ্য। মামলার বাদীপক্ষের হয়ে কারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা জানলেও এই মুহূর্তে তাদের নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাকিব আল হাসান দেশের বাইরে রয়েছেন এবং তার নামে করা মামলাগুলো নিয়ে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এই প্রথম তিনি প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে অর্থ দাবির মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন।
সাকিবের এই বক্তব্য প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও সাকিব তার দেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং ভবিষ্যতে আইনিভাবেই সব মোকাবিলার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সময়ের আলো/টিএইচ