জনপ্রিয় কৃষি উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর উম্মে কুলসুম পপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর বৈবাহিক জীবন, মাতৃত্বকালীন সংগ্রাম এবং সম্পর্কের বিশ্বস্ততা নিয়ে একটি গভীর ও আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, একটি পরিবারকে আগলে রাখা কিংবা সন্তান লালন-পালন করা কখনোই কেবল নারীর একার দায়িত্ব হতে পারে না। পপি তার লেখায় বর্তমান সময়ে সমাজে বেড়ে যাওয়া পরকীয়া এবং এর ফলে নারীদের মানসিক বিপর্যয়ের চিত্রটি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
উম্মে কুলসুম পপি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, বিয়ের পর একজন মেয়েকে নিজের পরিচিত পৃথিবী ছেড়ে সম্পূর্ণ নতুন এক বাস্তবতায় খাপ খাইয়ে নিতে হয়। নতুন পরিবেশ ও সম্পর্কের ভিড়ে সবাইকে খুশি করতে গিয়ে নারী অনেক সময় নিজের ভালো থাকা ও নিজস্ব সত্তাকে বিসর্জন দেয়।
এই পরিবর্তনের মাঝেই যখন মাতৃত্বের আগমন ঘটে, তখন একজন নারীকে যে অসহনীয় শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা বাইরের কেউ উপলব্ধি করতে পারে না। তিনি মনে করেন, একজন মা তাঁর স্বপ্ন ও জীবনের একটি বড় অংশ নিঃস্বার্থভাবে উৎসর্গ করেই নতুন একটি প্রাণের জন্ম দেন।
তবে এই ত্যাগের বিপরীতে সমাজের কিছু রূঢ় বাস্তবতার কথা তুলে ধরে পপি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, যখন একজন নারী তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যান, ঠিক তখনই অনেক পুরুষ ‘ভদ্র’ কিংবা ‘পারফেক্ট স্বামী’র মুখোশ পরে আড়ালে পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। তার মতে, পরকীয়া কেবল একটি ভুল নয় বরং এটি একজন মানুষের আত্মসম্মান ও ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বস্ততা কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং এটি একটি সম্পর্কের সবচেয়ে মৌলিক ও প্রধান দায়িত্ব।
নিজের স্ট্যাটাসের শেষাংশে এই কৃষি উদ্যোক্তা সমাজকে নারীর ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করেন, সব পুরুষ সমান না হলেও চারপাশে ঘটে যাওয়া এই বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনাগুলো তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে।
নারীর ত্যাগকে দুর্বলতা না ভেবে তার অনুভূতিকে সম্মান করতে শেখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং হাজার হাজার মানুষ তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/টিএইচ