বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলন হিসেবে হজের গুরুত্ব অপরিসীম। হজের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করা যায়। কেননা হাজিরা আল্লাহর মেহমান হিসেবে তাঁর ঘরে সমবেত হন। এ ছাড়া হজের সময় নবী করিম (সা.)-এর রওজা জিয়ারত এবং কুরবানির মতো ত্যাগের চেতনা একজন মুসলিমকে ইসলামি বিধি-বিধান পালনে অধিক অনুপ্রাণিত করে।
আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুমিনের ওপর হজ ফরজ করেছেন। তবে হজ আদায়ের জন্য অর্জিত সম্পদ হালাল হওয়া অপরিহার্য। কারণ হারাম উপার্জনে হজ আদায় করলে তা কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তাই হজ যেমন পবিত্র ইবাদত, তেমনি এর জন্য ব্যবহৃত সম্পদও পবিত্র হওয়া আবশ্যক।
হজের ফজিলত সম্পর্কে কুরআন শরিফে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘এ ঘরের হজ করা হলো মানুষের ওপর আল্লাহর হক, যার সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রয়েছে। আর কেউ তা অস্বীকার করলে আল্লাহ তায়ালা বিশ্ববাসী থেকে অমুখাপেক্ষী।’ (সুরা আলে ইমরান : ৯৭)
পাপ মোচনে হজের গুরুত্ব : হজ শুধু শারীরিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হজ পালন বান্দার পাপও মোচন করে দেয়। এর ফলে হজ পালনকারীর পাপের বোঝা হালকা হয় এবং দারিদ্র্য দূর হয়। তবে হজ পালন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হতে হবে। এতে কোনো প্রকার লৌকিকতা থাকতে পারবে না।
এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, হজ ও ওমরাহ সঙ্গে সঙ্গে করো। কেননা এগুলো দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে, যেভাবে হাপর লোহ, স্বর্ণ ও রুপার ময়লা দূর করে। আর কবুল করা হজের সওয়াব জান্নাত ব্যতীত আর কিছুই নয় (তিরমিজি : ৮১৫; নাসায়ি : ২৬৪৩)।
তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ করেছে এবং তাতে অশ্লীল কথা বলেনি বা অশ্লীল কাজ করেনি, সে হজ থেকে ফিরিবে সেই দিনের ন্যায়, যে দিন তার মা তাকে প্রসব করেছে। (বুখারি : ১৫৪৬; মুসলিম : ৩৩৫৭)
জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ : পবিত্র হজ জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের অন্যতম সোপান। মহান আল্লাহ যাকে হজ পালনের সামর্থ্য দিয়েছেন, যদি সে হজ না করে ওই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তা হলে সে জাহান্নামের ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক আগুনে পতিত হবে। তাই হজের পরম লক্ষ্য হচ্ছে মুমিন বান্দাকে জাহান্নামের আজাব থেকে পরিত্রাণ করে জান্নাতে উপনীত করা।
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, এক ওমরাহ অপর ওমরাহ পর্যন্ত সময়ের জন্য কাফফারাস্বরূপ এবং কবুল করা হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া ভিন্ন কিছুই নয় (বুখারি : ১৮০০)।
রাসুল (সা.) আরও বলেন, যখন তুমি কোনো হাজির সাক্ষাৎ পাবে তাকে সালাম করবে, করমর্দন করবে এবং তাকে অনুরোধ করবে যেন তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তার ঘরে প্রবেশের আগে। কেননা হাজি হলো গুনাহ ক্ষমা করা পবিত্র ব্যক্তি। (মেশকাত : ২৪২৩)
হজ পালনকারীর দোয়া মুহূর্তেই কবুল হয় : হজ ও ওমরাহ পালনকারীর দোয়া আল্লাহর দরবারে মুহূর্তেই কবুল হয়। তাদের দোয়া ফেরত দেওয়া হয় না। কারণ তারা হজ ও ওমরাহ পালন করা অবস্থায় আল্লাহর ঘরের মেহমান।
তাই হজ পালন অবস্থায় প্রত্যেক মুমিন নিজের সদিচ্ছামূলক বিষয় নিয়ে এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করা উচিত।
এ মর্মে রাসুল (সা.) বলেন, হজ ও ওমরাহ পালনকারীরা হচ্ছে আল্লাহর দাওয়াতি যাত্রী দল। অতএব তারা যদি তাঁর কাছে দোয়া করে তিনি তা কবুল করেন এবং যদি তাঁর কাছে ক্ষমা চায়, তিনি তাদের ক্ষমা করে দেন। (ইবনে মাজাহ : ৩০০৪)
হজ না করার পরিণাম : যেসব মুসলমানের ওপর ইসলামি শরিয়তের শর্ত মোতাবেক হজ ফরজ হয়েছে, তারা যদি হজ পালন না করে, তা হলে তাদের পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। তবে শরিয়ত নির্দেশিত সমাস্যার কারণে হজ পালনে বাধার সম্মুখীন হলে, তখন হজ অনাদায়ে কোনো প্রকার গুনাহগার হবে না।
কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই হজ পালন না করলে অবশ্যই গুনাহগার হবে। এমনকি ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করার আশঙ্কাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, যাকে শক্ত অভাব অথবা অত্যাচারী শাসক অথবা গুরুতর রোগ বাধা দেয়নি, অথচ সে হজ না করে মরতে বসেছে, মরুক সে যদি চায় ইহুদি হয়ে আর যদি চায় নাসারা হয়ে। (মেশকাত : ২৪২০)
/কেএইচও